উইসকনসিন প্রাইমারিতে পরীক্ষার মুখে বাইডেনবিরোধী ‘আনকমিটেড’ ভোট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ইসরায়েল সমর্থন নীতির বিরোধীরা ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ভোটারদেরকে ‘আনকমিটেড’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

রয়টার্সবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 05:27 PM
Updated : 1 April 2024, 05:27 PM

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যে মঙ্গলবার এবছর নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাইমারির ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ ভোটে পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইসরায়েলি নীতির বিরোধীরা।

বাইডেন ইসরায়েলকে দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাওয়ার যে নীতি নিয়েছেন, তার সমালোচক এবং বিরোধিতাকারীরা সংগঠিতভাবে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ভোটারদেরকে ব্যালটে বাইডেনের পরিবর্তে ‘আনকমিটেড’ বা ‘আনইন্সট্রাকটেড’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশব্যাপী প্রচার চালিয়ে আসছেন।

দুটো রাজনৈতিক দলের প্রাইমারি ভোটের ব্যালটেই বিকল্প হিসাবে ‘আনকমিটেড’ শব্দটি রাখা হয়েছে। যাতে ভোটাররা ব্যালটের কোনও প্রার্থীকে ভোট না দিতে চাইলে ‘আনকমিটেড’ ভোট দিতে পারেন।

উইসকনসিনে ‘আনকমিটেড’ ভোটকে বলা হয় ‘আনইন্সট্রাকটেড’ ভোট। সেখানে দুই সপ্তাহ ধরে ৬০টি তৃণমূল গোষ্ঠী ও সংগঠন ভোটারদের আহ্বান জানাচ্ছে এই ভোট দেওয়ার জন্য।

ভোটারদের ফোন করে, ব্যানার টানিয়ে, চিঠি পাঠিয়ে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে এবং বন্ধু ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছে তারা। তাদের লক্ষ্য ২০ হাজার ৬৮২টি ‘আনকমিটেড’ ভোট পাওয়া।

এই ভোটের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পকে এতসংখ্যক ভোটের ব্যবধানেই হারিয়েছিলেন বাইডেন।

তবে ‘আনকমিটেড’ ভোটাররা বাইডেনকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। এই ভোটাররা বাইডেনকে ভোট না দিলে তিনি এই রাজ্যে ট্রাম্পের কাছে হেরে যেতে পারেন।

কিন্তু উইসকনসিনের মতো যেহেতু আনকমিটেড ভোটের পক্ষে একই ধরনের প্রচার চলেছে হাওয়াই, মিশিগান ও মিনেসোটার প্রাইমারিতে, তাই এর প্রভাব এ রাজ্যের ভোটেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে ফের বাইডেন ও ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে দিয়ে দুইজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ২০২০ সালে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যে অল্প ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বাইডেন।

আনইন্সট্রাকটেড ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো সংগঠনগুলো দাবি জানাচ্ছে, বাইডেনকে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে হবে এবং ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

আগস্টে শিকাগো রাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশন নিয়েও তারা পরিকল্পনা করছেন। ওই কনভেনশনে বাইডেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হতে পারেন।

শিকাগোর ডেমোক্র্যাটিক কনভেনশনে সাড় চার হাজার ডেলিগেট আনুষ্ঠানিকভাবে বাইডেনকে প্রার্থী মনোনীত করবেন। এখন পর্যন্ত আনকমিটেড প্রচার শিবির পাঁচ অঙ্গরাজ্যে ২৫ ডেলিগেট জিতেছে।

বাইডেনের ইসরায়েল নীতির বিরোধিতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কিছু ডেমোক্র্যাট। বাইডেনের প্রচারণা শিবিরের এক নারী মুখপাত্র বলেছেন, “সহিসংতার অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এ লক্ষ্যে তিনি অবিরাম কাজ করছেন।”

গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘনিয়ে আসতে থাকায় ঘরে-বাইরে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ জোরালো হওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে ভিটো না দিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতি আহ্বানের সেই প্রস্তাব পাস হতে দিয়েছে এবং এ পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে বাইডেন প্রশাসন।