১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখলে নিয়ে ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ

বিক্ষোভকারীরা হ্যামিল্টন হলে অবস্থান নিয়েছে।

বিডিনিউজ২৪

রয়টার্স

Published : 17 Feb 2025, 04:20 PM

Updated : 01 Sep 2026, 09:05 PM

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া অল্টিমেটামের মুখে বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে। কয়েক ডজন ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারী হ্যামিল্টন হল ভবন দখলে নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে।  

অ্যাকাডেমিক এই হল ভবনটি ১৯৬০ এর দশকে ছাত্র বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে বিক্ষোভকারীরা হ্যামিল্টন হলে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভবনটি দখলে নেয়।

বিক্ষোভকারীরা হলের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। বাইরে থাকা অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা সেখানে থাকা টেবিল দিয়ে হলের দরজা বন্ধ করে দেয়। হলের সামনে হাতে হাত ধরে ব্যারিকেডও তৈরি করে তারা।

ভেতর থেকে এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলেন, তারা গাজায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর হাতে নিহত ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ‘হিন্দ’ এর সম্মানার্থে ভবনটি 'মুক্ত' করেছেন, যে দখলদার বাহিনীকে অর্থায়ন করছে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

 এ সময় বাইরে থাকা অন্য বিক্ষোভকারীরাও একই কথার পুনরাবৃত্তি করে। ভবনের ওপর তলা থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘হিন্দ'স হল’ লেখা একটি ব্যানারও ঝুলায়।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল বলে বর্ণনা করেছেন এক শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, “জোর করে ভবন দখল করা শান্তিপূর্ণ নয়। এটি করা ঠিক না।”

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর আগে সোমবার দুপুর ২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে তাঁবু শিবিরে অবস্থান কর্মসূচি বন্ধের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিল, অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে নির্দেশ অমান্য করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারও করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারপরও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে।

ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলছে। এর সূচনা হয়েছে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

গত সপ্তাহে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভেতর তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান কর্মসূচি নেয় তারা।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকার পর ব্যাপক ধরপাকড় হয়। এ ঘটনার পরই  দ্রুত এ বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।