যুদ্ধ: পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলার দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো এতে রাজি কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও তেল পরিবহনে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নথিপত্র হাতে আসার কথাও বলেছে সংবাদমাধ্যমটি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, যুদ্ধের ফলে গত সাত মাসে বিশ্ব জ্বালানি বাজার যে চরম অস্থির হয়ে উঠেছে এবং ইরান যে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর তেলের পাইপলাইন ও রিফাইনারিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, এই অর্থ সহায়তার মার্কিন পদক্ষেপ মূলত তার একটি পরোক্ষ স্বীকারোক্তি। একইসঙ্গে এ উদ্যোগ প্রমাণ করে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুননির্মান বেশ ব্যয়বহুল হবে।
খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী হাজার কোটি ডলারের একটি যৌথ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তহবিলে তারা দেবে ৫০০ কোটি ডলার। বাকি সমপরিমান অর্থ পশ্চিম এশিয়ার তেল সমৃদ্ধ আট দেশ- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, ইরাক এবং জর্ডানের কাছ থেকে সহায়তা চাইবে তারা। এই বিনিয়োগ উদ্যোগটির নাম যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যালাইড ট্রাস্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ বা ‘প্যাক্ট’।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে এবং চুক্তির শর্তাবলীও পরিবর্তন হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো কখন বা আদৌ এতে স্বাক্ষর করবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন মূলত হরমুজ প্রণালিকে কম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে ইরানকে মোকাবিলায় তারা যে মিত্রদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আছে, সেটাও তুলে ধরবে।
পশ্চিম এশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনাগুলো পুননির্মাণের জন্য তহবিল তৈরি করাটা হবে অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত। কারণ ইরান আবার ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নতুন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
স্বাধীন আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড আস এর সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিলাল সাব বলেন, “এই কৌশলের প্রতিটি পদে ঝুঁকি আছে। কারণ হরমুজ প্রণালির ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নির্ভরতার মাত্রা ভিন্ন। সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার করতে পারলেও, কুয়েত ও কাতারের মত তুলনামূলক ছোট দেশগুলো এখনও পুরোপুরি হরমুজ প্রণালির ওপরই নির্ভর করে।”
