শরিক নেতাদের অনুপস্থিতি, স্থগিত ভারতের বিরোধীজোট ‘ইন্ডিয়ার’ বৈঠক

কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খগড়ে গত রোববার এই বৈঠক ডেকেছিলেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Dec 2023, 12:12 PM
Updated : 5 Dec 2023, 12:12 PM

দিল্লিতে ভারতের বিরোধীদলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’র যে বৈঠক বুধবার হওয়ার কথা ছিল তা স্থগিত করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানায়।

কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খগড়ে গত রোববার এই বৈঠক ডেকেছিলেন। কিন্তু জোটের বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতা সেদিন দিল্লিতে উপস্থিত থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে জানায় কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার।

যাদের একজন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আনন্দবাজার জানায়, উত্তরবঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছেড়ে দিল্লিতে বৈঠক করতে যেতে পারবেন না বলে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। একই কারণে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে হাজির থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

ঘূর্ণিঝড় মিগযাউম আঘাত হানার কারণে রাজ্যের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও রাজ্য ছাড়বেন না বলে জানা গেছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার আরো জানায়, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এবং সপা-র প্রধান অখিলেশ যাদবও ওই বৈঠকে থাকতে পারবেন না। একের পর এক শীর্ষ নেতার বৈঠকে না থাকার সম্ভাবনা প্রবল হওয়ায় বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত মাসে ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে চারটির ফলাফল ঘোষণা করা হয় গত রোববার। চার রাজ্যের মধ্যে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড় এবং রাজস্থানে রীতিমত ধরাশায়ী হয়েছে কংগ্রেস; বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। কেবলমাত্র তেলেঙ্গানাতে জিতেছে কংগ্রেস। তাও ‘ভারত রাষ্ট্র সমিতি’ (বিআরএস) এর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে।

আগামী বছর ভারতে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে এই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে লোকসভা নির্বাচনের ‘সেমিফাইনাল’ বলা হচ্ছিল। যার ফলাফল থেকে জাতীয় নির্বচানের আগে কোনো দলের কি অবস্থা তার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।

সেখানে তিনটি রাজ্যে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে রণনীতি ঠিক করতেই হয়তো তড়িঘড়ি করে ‘ইন্ডিয়া’ শরিকদের বৈঠক ডেকেছিল কংগ্রেস।

আগামী নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে-বিজেপি হারাতে দেশটির প্রধান প্রধান বিরোধীদলগুলো একজোট হয়ে ‘ইন্ডিয়া’ গঠন করেছিল। বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জোট গঠন করলেও ইদানিং শরিকদের মধ্যে ‘মতপার্থক্য’ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে নভেম্বরে হওয়ার চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’র বাকি শরিক দলগুলোর মধ্যে ‘অসন্তোষের’ আবহ তৈরি হয়। কারণ, কংগ্রেস শরিকদের জন্য জায়গা ছাড়তে রাজি হয়নি। যে কারণে শরিকদের সঙ্গে কংগ্রেসের ‘দূরত্ব’ বড়েছে বলে মত রাজনীতি বিশ্লেষকদের।

আসন ভাগাভাগিতে জমি না ছাড়া কংগ্রেসের পরে নির্বাচনে ভরাডুরি শরিকদের মধ্যে ‘ক্ষোভ’ আরো বাড়িয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধারণা করা হচ্ছিল, বিজেপির মধ্যপ্রদেশে এবার আসন জমাতে যাচ্ছে কংগ্রেস। রাজস্থান আর ছত্তিসগড়ে তো দলটি আগেই ক্ষমতায় ছিলো।

অথচ, রোববার ফলাফল হলো ঠিক তার উল্টো। মধ্যপ্রদেশে বিজেপির সঙ্গে এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়তে ব্যর্থ হয়েছে মল্লিকার্জুনের দল। বরং রাজস্থান আর ছত্তিসগড়ও হাতছাড়া হয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের ৬টি আসন চেয়েছিলেন ‘ইন্ডিয়া’র শরিক সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দিতে রাজি হননি রাহুল গান্ধীরা। পরে ৭১ আসনে প্রার্থী দিয়ে অখিলেশ ঘোষণা করেছিলেন, কংগ্রেসের ‘বেমাইনির’ জবাব দেবেন তিনি। দুই শরিকের এই দ্বন্দ্বে লাভবান হয়েছে বিজেপি।

শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, ছত্তিসগড় এবং রাজস্থানে কংগ্রেসের ভরাডুবির ‘কারণ’ হিসাবেও উঠে এসেছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রচারের দিশাহীনতার পাশাপাশি, ‘একলা চলো’ মানসিকতা।