বিশ্বকাপ হচ্ছে ‘তাদের শ্রম-ঘামে’, বলছেন কাতারের অভিবাসী শ্রমিকরা

দোহার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য স্থাপিত একটি ফ্যান জোনে বিনামূল্যে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাচ্ছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Nov 2022, 07:46 AM
Updated : 21 Nov 2022, 07:46 AM

মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে কাতারের রাজধানী দোহার একটি স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক, তারা ঘাসে ঢাকা মাঠে বসেছিলেন, অনেকে স্ট্যান্ড থেকে সেলফি নিচ্ছিলেন। 

শহরের একপ্রান্তে একটি শিল্প এলাকায় স্থাপিত বিশেষ এই ফ্যান জোনটিতে বিশালাকার টিভি পর্দাসহ একটি স্টেডিয়ামও আছে। উপচে পড়া ভিড় সামলাতে বাইরেও একটি বিশাল টিভি পর্দা বসানো হয়েছে। এর লাগোয়া শ্রমিকদের বেশ কয়েকটি শিবির, এখানে কাতারের নিম্ন আয়ের কয়েক লাখ শ্রমিকের বাস।

রোববার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কাতারকে সর্মথন করা উগান্ডার নাগরিক রোনাল্ড সেনিওন্ডো (২৫) বলেন, “আমরা এখন আমাদের ঘাম উদযাপন করতে এখানে এসেছি।”

দুই বছর ধরে কাতারে আছেন তিনি, যে স্টেডিয়ামগুলোতে এখন বিশ্বকাপের খেলাগুলো হচ্ছে সেগুলো নির্মাণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গনগনে সূর্যের নিচে কাজ করেছেন তিনি।   

“এখন যা দেখছি তাতে আমি অভিভূত,” বলেন তিনি।

গ্যাস সমৃদ্ধ ধনী দেশ কাতারের লোকসংখ্যা ২৯ লাখ। এদের বিশাল একটি অংশ বিদেশি কর্মজীবী যাদের মধ্যে নিম্ন আয়ের নির্মাণ শ্রমিক থেকে শুরু করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাহীরাও আছেন। 

স্টেডিয়াম ও বিশ্বকাপের ভক্ত-দর্শকদের জন্য যারা হোটেল নির্মাণ করেছেন তারাসহ নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের অতিরিক্ত খাটানো, মজুরী বাকি রাখা ও অস্বাস্থ্যকর বাসস্থানে রাখার মাধ্যমে কাতারের কর্তৃপক্ষ তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে বলে অভিযোগ মানবাধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলোর।  

কাতার সরকার বলেছে, তারা মাসে সর্বনিম্ন এক হাজার কাতারি রিয়াল (২৭৫ ডলার) মজুরিসহ শ্রমিক আইন প্রণয়ন করেছে, নিজ দেশে তারা যা আয় করে এ অর্থ তার চেয়েও বেশি।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকেটের গড় দাম ২০০ ডলারের উপরে হলেও শিল্পাঞ্চলের ওই ফ্যান জোনে কোনো টিকেট লাগছে না। প্রথম ম্যাচে কাতারকে সমর্থন দিতে এখানে কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়েছিল। ম্যাচে একুয়েডর ২-০ গোলে জেতার পর তারা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, সারা মাসে এই একটি খেলাই এতো কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছেন তারা।  

পাঁচ বছর ধরে কাতারে কাজ করা আলি জামাল (২৬) বলেন, “ইথিওপিয়ায় আমার বোন ও ভাইদের টাকা পাঠাচ্ছি আমি। টিকেটের দাম অনেক হওয়ায় এখানে এসেছি।” 

এই জোনে উপস্থিত অল্প কয়েকজন নারীর একজন, এক নেপালি সেবিকা জানান, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ দেখতে পারবেন না তিনি।

চলতি বছরের প্রথমদিক থেকে কাতারে কাজ করতে থাকা ভারতীয় মোহাম্মদ আনসার (২৮) জানান, বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচে ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন তিনি, তাই সেগুলো স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে সরাসরি দেখতে পাবেন।  

কাতারের হারে হতাশ হলেও রোববার সহকর্মীদের সঙ্গে ম্যাচটি দেখতে পেরে খুশি তিনি; বলেছেন, “তারা গরিবদের কথাও বিবেচনা করেছে, এখানে বিনা খরচে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।”  

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক