রাশিয়ার ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় প্রধান কৌঁসুলি, ‘দমবে না’ আইসিসি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাল্টায় মস্কো এ পদক্ষেপ নিল।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 May 2023, 08:36 AM
Updated : 21 May 2023, 08:36 AM

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বলেছে, রাশিয়া তাদের প্রধান কৌঁসুলিকে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় রাখলেও তাতে ‘দমছে না’ তারা। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দুই মাস পর মস্কোর এই তালিকায় আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ও একাধিক বিচারকের নাম যুক্ত হয়েছে বলে শুক্রবার জানায় ‍রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

এর প্রত্যুত্তরে শনিবার দেওয়ার বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বলে, রাশিয়ার এমন পদক্ষেপ ‘গুরুতর অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে তাদের বৈধ কর্তৃত্বকে’ খাটো করার চেষ্টা।

রাশিয়া আইসিসির সদস্য নয়; আন্তর্জাতিক এই আদালত পুতিনকে গ্রেপ্তারে যে পরোয়ানা জারি করেছিল মস্কো আগে সেটাকে ‘অর্থহীন’ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছিল, জানিয়েছে বিবিসি।

ইউক্রেইনে যুদ্ধাপরাধ ও দেশটি থেকে অবৈধভাবে শিশুদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের মার্চে ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খান পুতিনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

একই অভিযোগে রাশিয়ার শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি হয়।

রাশিয়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে সেনা পাঠানোর পর এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি শিশুকে জোর করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি কিইভের কর্মকর্তাদের।

ক্রেমলিনের একটি তদন্ত কমিটি কয়েকদিন আগে জানায়, তারাও করিম খানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে।

শনিবারের বিবৃতিতে হেগভিত্তিক আইসিসি বলে, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযৌক্তিক জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার ব্যাপারে অবগত এবং ব্যাপক উদ্বিগ্ন’।

রাশিয়ার পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে আইসিসি বলে, মস্কোর এমন কর্মকাণ্ডও ‘নিরপেক্ষ আদেশ দেওয়া’ থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে পারবে না।

রাশিয়ার ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ঢোকা প্রসঙ্গে করিম খানের এখন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া গাম্বা সম্প্রতি মস্কোতে গিয়ে আইসিসির পরোয়ানায় থাকা লভোভা-বেলোভার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভার্জিনিয়ার এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

রাশিয়া বলছে, লভোভা-ভার্জিনিয়ার মধ্যে ‘আন্তরিক ও গঠনমূলক’ বৈঠক হয়েছে।

“ইউক্রেইনে ক্ষতিগ্রস্তরা লভোভা-বেলোভাকে হেগে জেলের মধ্যে দেখতে চায়, জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে নয়,” বলেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচে ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক বলকেস জারা।