আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তে ‘সময় লাগবে’: কৌঁসুলি তামীম
সারাদেশ থেকে তথ্যসংগ্রহ চলছে বলে জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে যে তদন্ত চলছিল তা স্থবির হয়ে পড়েনি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামীম।
রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দলটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অপরাধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। একটি সংগঠন হিসেবে এই তদন্ত শেষ করতে সময় লাগবে।
জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আওয়ামী লীগেরই প্রণীত আইনের বিধান অনুযায়ী দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
এর আগে গত বছরের ৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে এ অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার এক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, সাবেক ও বর্তমান প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দল হিসেবে যে তদন্ত চলছে, সেটি বর্তমানে ‘কোল্ড স্টোরেজে’ চলে গেছে কি না?
জবাবে কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামীম বলেন, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা সারা দেশ থেকে মামলার প্রত্যক্ষ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, একটি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করা বিশাল সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং দলটির কার্যক্রম থাকা শাখা-উপশাখা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো সংগঠন এমন বিচারপ্রক্রিয়া আসেনি জানিয়ে কৌঁসুলি তামীম বলেন, এটি একটি ‘বিরল ঘটনা’। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা পর্যাপ্ত সময় নিচ্ছেন এবং প্রসিকিউশনের সাহায্য ও পরামর্শে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।
কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে, এমন প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাননি গাজী এম এইচ তামীম।
সারা দেশে অপরাধের কার্যক্রম সংঘটিত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময় বলা কঠিন মন্তব্য করে এ কৌঁসুলি বলেন, “এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং এর জন্য সময় লাগবে।”
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন কৌঁসুলি তামীম।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। দলটির নেতা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
তার তিন দিনের মাথায় মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা হতে থাকে।
আওয়ামী লীগের সময়ে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল, সেই একই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অভ্যুত্থান দমাতে গিয়ে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার দলের নেতাকর্মী এবং সমমনাদের বিরুদ্ধে এখন ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের। এরই একপর্যায়ে গত ১২ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সব কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
