Published : 04 May 2026, 10:01 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজগুলো ‘মুক্ত করতে সাহায্য’ করবে।
তার প্রশাসন কৌশলগত ওই জলপথটিতে ইরানের অবরোধ ভাঙতে যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে লিখেছে আল জাজিরা।
রোববার ট্রাম্প জানিয়েছেন, যে দেশগুলোর জাহাজ প্রণালিটিতে আটকা পড়ে আছে তাদের অনুরোধে তিনি ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নাম দেওয়া এই অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন।
ওই দেশগুলোকে তিনি ‘নিরপেক্ষ ও নিরীহ দর্শক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে কোন দেশগুলো ওয়াশিংটনের সাহায্য চেয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, “ইরান, মধ্যপ্রাচ্য (পশ্চিম এশিয়া) ও যুক্তরাষ্ট্রের ভালোর জন্য আমরা এই দেশগুলোকে বলেছি যে আমরা তাদের জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে ওই বিধিনিষেধ কবলিত জলপথগুলো থেকে নিরাপদে বের করে দেবো, যেন তারা অবাধে ও সক্ষমতার সঙ্গে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।
“এসব জাহাজের অনেকগুলোতেই খাবার তেমন নেই আর অধিকাংশ নাবিকদের সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জাহাজে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্য সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”
ট্রাম্প আরও বলেছেন, “এই অভিযানে যে কোনো হস্তক্ষেপ দুর্ভাগ্যবশত শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।”
ট্রাম্প মানবিক সদিচ্ছার ভঙ্গিতে এই অভিযানের পরিকল্পনা তুলে ধরলেও এটি কীভাবে শুরু করা হবে, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করে এটি করা হবে কি না, এসব বিষয় পরিষ্কার হয়নি।
যদি ইরান এ উদ্যোগ প্রতিহত করার চেষ্টা করে তবে ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যে কোনো ‘মার্কিন হস্তক্ষেপকে’ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এক্স এ এক পোস্টে তিনি বলেছেন, “ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর পোস্টগুলো দিয়ে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর সামলানো যাবে না! দোষারোপ খেলার দৃশ্যকল্পে কেউ বিশ্বাস করবে না!”
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘মুক্তভাবে চলাচল করতে চাওয়া’ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সোমবার থেকে সমর্থন দেওয়া শুরু করবে তারা।
তবে এই জলপথে তারা কীভাবে জাহাজের ‘মুক্তভাবে চলাচল’ নিশ্চিত করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সেন্টকম।
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, সংকীর্ণ ওই জলপথটিতে জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার জন্য তারা ‘প্রস্তুত না’, সেখানে ইরানি ভূখণ্ড থেকে গোলাবর্ষণের শিকার হতে পারে তারা।
আরও পড়ুন:
ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সামনে এখন দুটিই পথ: আইআরজিসি
আকাশছোঁয়া দাম, ছাঁটাইয়ের খড়্গ: যুদ্ধের চাপে নাজেহাল ইরানের অর্থনীতি