Published : 24 Jan 2026, 07:15 PM
গুরুতর অসাদাচরণ ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ঊর্ধ্বতন দুই সামরিক কর্মকর্তা ঝাং ওউশিয়া ও লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এ খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রভাবশালী এ দুই কর্মকর্তার মধ্যে ঝাং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্তর রাজনৈতিক পরিষদ বা পলিটব্যুরোর সদস্য এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান। আর লিউ সিএমসির জয়েন্ট স্টাফ বিভাগের চিফ অব স্টাফ, বলেছে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আধুনিকায়নের কাজে অভিজ্ঞ ৭৫ বছর বয়সী ঝাংকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। চীনের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এখন যে অল্প ক’জনের সরাসরি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আছে তিনি তাদের একজন। ঝাং চীনের সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সিএমসির দুই ভাইস চেয়ারম্যানের একজন।
২০১২ সালে শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী বিস্তৃত অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই ছিল সামরিক বাহিনী। ওই অভিযান চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ) সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছিল ২০২৩ সালে, যখন রকেট বাহিনীও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
দুর্নীতির অভিযোগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জেনারেল হে ওয়েইদংসহ ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৮ শীর্ষ জেনারেলকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কারও করা হয়। ওয়েইদং শি-র অধীনে ঝাংয়ের সঙ্গেই সিএমসি-তে ছিলেন।
দুর্নীতির দায়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের ক্ষমতাসীন পার্টি দুই সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকেও ছেঁটে ফেলেছে। এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ দেশটির সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দিয়েছে এবং চীনের বড় বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানির আয়েও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাজের পরিধি, পিএলএ-তে প্রভাব ও শি-র ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ঝাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণার পর চীনের ঘটনাপ্রবাহের দিকে বিদেশি কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মনোযোগ আরও বাড়বে বলেই অনেকের ধারণা।
চীন কয়েক দশকের মধ্যে কোনো যুদ্ধে না জড়ালেও তারা এখন পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে প্রভাব ক্রমশ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিয়মিত ‘ভয় দেখাচ্ছে’। বেইজিং তাইওয়ানকে তার অংশ মনে করলেও তাইপে এ দাবির সঙ্গে একমত নয়। তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়তে চীন বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে রাখলেও এখন পর্যন্ত কেবল দ্বীপটির আশপাশে সামরিক মহড়া ছাড়া তেমন কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়নি।
তাইওয়ানের আশপাশে এখন পর্যন্ত বেইজিং যত সামরিক মহড়া করেছে তার মধ্যে গত বছরের শেষের দিকেরটা ছিল সবচেয়ে বড়।
ঝাংকে সরিয়ে দেওয়া হলে তিনি হবেন ১৯৬৬-৭৬ পর্যন্ত চলা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সিএমসি থেকে পদচ্যুত দ্বিতীয় জেনারেল। তাকে গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, সেদিন তিনি মস্কোতে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
ওই মাসের শুরুর দিকে এক নিবন্ধে ঝাং ‘ভুয়া আনুগত্য’ ও ‘দ্বিমুখী মানুষদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি সামরিক বাহিনীর প্রতি ‘বিষাক্ত প্রভাব ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা’ নির্মূলেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।