Published : 30 Jun 2026, 10:19 AM
মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের চলতি সপ্তাহে দোহা যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু ইরান সোমবার বলেছে, কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তার দূত স্টিভ উইটকফকে মার্কিন আলোচক দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দোহা পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট।
অপরদিকে চলতি সপ্তাহে ইরান তাদের বিশেষজ্ঞ দলকে কাতারে পাঠাচ্ছে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাকায়ি জানিয়েছেন, এই বিশেষজ্ঞ দলের কাতার যাওয়ার সঙ্গে আমেরিকানদের সফরের ‘কোনা সম্পর্ক নেই’ আর দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
বাকায়ি বলেছেন, “সামনের দিনগুলোতে আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে আমাদের কোনো পর্যায়েই কোনো আলোচনা সভা নেই।”
শনি ও রোববার দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি দোহায় দুই পক্ষ দেখা করবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে চার মাস পুরনো যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছিল। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, জানিয়েছে রয়টার্স।
কারণ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকর ভাবে বন্ধ করে রেখেছিল আর তাতে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক রকম বেড়ে গিয়েছিল। এর ফলে মার্কিন ভোটারদের জ্বালানির জন্য বাড়তি মূল চোকাতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য দুই পক্ষ নিজেদের জন্য অন্তত ৬০ দিন বরাদ্দ রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে এপ্রিলে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী ও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভাঙার অভিযোগ আনায় অগ্রগতি থেমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি আলোচনায় ইসরায়েলকে রাখা হয়নি আর তেল আবিবও তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই অন্তবর্তী চুক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখছে। লেবাননের লড়াই বন্ধ করা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পৃথক একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করায় এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হিজবুল্লাহর মিত্র লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি এই চুক্তি লেবাননে রক্তপাত বন্ধে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের একজন ঊধ্র্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দোহায় একটি বৈঠক হবে তবে তা সুইজারল্যান্ডে হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনার মতো হবে না। আলোচনাটিতে উত্তেজনা প্রশমণ ও হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা বিষয়টি প্রধান্য পাবে।
পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুধবার মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন, “দোহার বৈঠকটি সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, সম্ভবত নয়। আমরা খতিয়ে দেখবো।”
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমরা সামরিকভাবে জিতেছি।” পাশাপাশি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানানো থেকে অবশ্যই বিরত রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: