Published : 16 Jan 2026, 09:46 PM
চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য মোকাবেলায় নতুন সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে জাপান ও ফিলিপিন্স।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ও ফিলিপিন্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো বৃহস্পতিবার চুক্তিটি সই করেছেন।
ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ (এসিএসএ) শীর্ষক এই চুক্তি সই হয়।
চুক্তিতে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে গোলাবারুদ, জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম করমুক্ত বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।
চুক্তি সইয়ের পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াব।”
সাম্প্রতিক সময়ে টোকিও এবং ম্যানিলা সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। জাপান টহল বোট এবং রেডিও গিয়ার সরবরাহ করছে ফিলিপিন্সকে।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোকিও থেকে ৬০ লাখ ডলারের সরকারি নিরাপত্তা সহযোগিতা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে।
নতুন চুক্তির বিষয়ে ম্যানিলায় এক যৌথ ব্রিফিংয়ে লাজারো বলেছেন, এ চুক্তি আমাদের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি জোরদার করবে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতিও জোরদার হবে।
দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ আছে ফিলিপিন্সের। ওই অঞ্চলে চীনের দাপট ঠেকাতে এবং তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৪ সালে সামরিক জোট ‘স্কোয়াড’ গঠন করে যুক্তরাষ্ট্র।
জাপান ও ফিলিপিন্স, দুই দেশই এর সদস্য। ফিলিপিন্স এবং চীনের বিরোধ দক্ষিণ চিন সাগরের সেকেন্ড থমাস শোলে দ্বীপকে কেন্দ্র করে।
ফিলিপিন্সের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও চীনের আগ্রাসী নীতির বিরোধিতা করেছে অতীতে।
এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের দেশের সঙ্গে আর্থিক ও সামরিক চুক্তির জাপানি উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে কব্জা করার চেষ্টা করে তবে তারা চুপ করে বসে থাকবেন না।
এর পরেই চীন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে নাক গলানো বন্ধ না করলে ‘ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপের’ মুখে পড়বে জাপান।
জবাবে চিনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছিল টোকিও। সেই উত্তেজনা প্রশমন করতে সে সময় হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।