Published : 12 Feb 2026, 08:48 PM
২০২৫ সালের জুনে ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার 'ফ্লাইট ১৭১' বিধ্বস্তের ঘটনার নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং পাইলটের ‘ইচ্ছাকৃত’ কাজ ছিল বলে দাবি করেছে ইতালির একটি সংবাদপত্র।
বুধবার ইতালীয় পত্রিকা ‘কোরিয়ারে দেলা সেরা’ বিমান চলাচল সংস্থাগুলোর কয়েকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই নতুন দাবি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের মধ্যে উড়োজাহাজের ককপিটের স্পষ্ট ভয়েস রেকর্ডিং আছে বলেও জানিয়েছে পত্রিকাটি।
গতবছরের ওই উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ২৬০ জন প্রাণ হারান, অলৌকিকভাবে বেঁচে যান মাত্র একজন যাত্রী। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ) এখনও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
তবে ইতলীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হযেছে, ভারতীয় তদন্তকারীরা তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে একথাই বলতে চলেছেন যে, এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ বিধ্বস্ত হয়েছিল- কারণ, উড়োজাহাজটির দুই পাইলটের একজন জ্বালানি সুইচ বন্ধ করেছিলেন। এটি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ তার ইচ্ছাকৃত কাজ ছিল।
উড়োজাহাজের ককপিটের ভয়েস রেকর্ডিং থেকে কোন পাইলট একাজ করেছেন তা চিহ্নিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ্যে পাইলট কমান্ডার সুমিত সভারওয়ালকে দায়ী করা হবে কিনা তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়- বলা হয়েছে ‘কোরিয়ারে দেলা সেরা’র প্রতিবেদনে।
উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় সুমিতও নিহত হন। সুমিতকে দোষারোপ করার এই চেষ্টার সমালোচনা করেছে তার পরিবারসহ ভারতের পাইলট অ্যাসোসিয়েশনও। তারা উড়োজাহাজ নির্মাণকারী, এয়ারলাইন্স এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলোও আরও যাচাই করে দেখার ডাক দিয়েছেন।
কিন্তু, ‘কোরিয়ারে দেলা সেরা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের সিমুলেটর টেস্টে এমন কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি পাননি যার কারণে একসঙ্গে দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হওয়া সম্ভব।
ফলে মানুষের হস্তক্ষেপ- সেটি ইচ্ছাকৃত বা দুর্ঘনাক্রমে যা-ই হোক না কেন- সেটিই উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের একমাত্র যৌক্তিক ব্যাখ্যা।
গত বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নের পরেই ককপিটের 'ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ' 'রান' পজিশন থেকে 'কাট-অফ' পজিশনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা গেছে, এক পাইলট আরেকজনকে জিজ্ঞেস করছেন- কেন তিনি জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করলেন? অন্য পাইলট তখন অস্বীকার করেন।
ইতালির পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তে সব তথ্য প্রকাশ করার জন্য বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে ভারতের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে।
এই দেশগুলোর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, তদন্ত স্বচ্ছ না হলে ভারতের সব বিমান সংস্থার নিরাপত্তা মান নতুন করে মূল্যায়ন করা হতে পারে। এতে আকাশপথের পরিবহন, পর্যটন ও বাণিজ্যে বিপুল বিনিয়োগ করা ভারতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইতালীয় সংবাদপত্রটি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, “পাইলটই বিমানটি ফেলে দিয়েছেন, তদন্তে এই দায় স্বীকার করে নেওয়াকে এখন কল্যাণকর বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।” অর্থাৎ, দেশের বিমান খাতের বৃহত্তর স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষায় মৃত পাইলটের ওপর দোষ চাপানোকেই এখন সহজ সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওদিকে বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত সংস্থা এয়ারক্র্যাফট অ্যাকসিডেন্ট ব্যুরো (এএআইবি)- এর কাছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন তলব করেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আগাম মন্তব্য বা অনুমান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছেন, তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।