Published : 27 Nov 2025, 06:22 PM
থাইল্যান্ডের বন্যা সহায়তাকারী দলগুলো ত্রাণ পাঠাতে এবার ড্রোনের দিকে নজর দিয়েছে; হেলিকপ্টার এরই মধ্যে ছাটে আটকে থাকা মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
পানি কমতে থাকায় দেশটির বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে আরও অভিযান চালানো সম্ভব হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
এদিকে পার্শ্ববর্তী ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যা, ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৪৬-এ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় থাইল্যান্ডে অন্তত ৩৩ ও মালয়েশিয়ায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। লাখো মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়েছে, ৭ ফুট উঁচু পানির কারণে অনেকে দিনকয়েক বিচ্ছিন্নও ছিলেন।
“এটা সময়ের সঙ্গে লড়াই। আমাদের বন্যাক্রান্তদের সহায়তা করতেই হবে,” নেশন টিভিতে এমনটাই বলেছেন থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আঙ্কাসাকুলকিয়াত।
তিনি জানান, উদ্ধারকারী দলগুলো এখন দুর্গতদের কাছে খাবার পাঠাতে ড্রোন প্রস্তুত করছে, টেলিযোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় তাদেরকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
থাইল্যান্ড ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করায় বুধবার দেশটির সেনাবাহিনী অন্তত ২০টি হেলিকপ্টার, উড়োজাহাজ এবং ট্রাকের বহর কাজে লাগিয়ে খাদ্য, ওষুধ ও ছোট নৌকা পৌঁছে দেয়। তারা নৌকা ও জেট স্কির জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বানও জানায়।”
বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাত ইয়াই শহরে বৃহস্পতিবার বিশেষ যান নিয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কর্পস ও বেসামরিক সুরক্ষা বাহিনীর দুই হাজার সদস্য পৌঁছেছে। হেলিকপ্টার শহরটির হাসপাতালগুলোতে খাবার পৌঁছে দিয়েছে, যদিও বাসিন্দাদের অনেকে এখনও বিভিন্ন বাড়ির ছাদে আটকে আছে।
বন্যা থাইল্যান্ডের দক্ষিণের ৯ প্রদেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পঞ্চম বৃহত্তম শহর হাত ইয়াইয়ে শুক্রবার ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছিল, যা ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আকাশ থেকে তোলা ভিডিওতে হাত ইয়াইয়ের মাইলের পর মাইল এলাকা বাদামি রঙের বন্যার পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। ফেলে যাওয়া গাড়ি, ট্রাককে পাশ কাটিয়ে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো কোনোরকমে এগুচ্ছে। কোথাও হাঁটু সমান উচ্চতার পানি ঠেলে এগুচ্ছে একদল মানুষ।
“আমি দাদির কাছে ফিরছি কেননা তার কাছে দুই-তিনদিন ধরে কোনো খাবার নেই। শুনেছি তিনি কিছু খাবার পেয়েছেন, তবে আমি এখনও উদ্বিগ্ন।
এদিকে ৬ কোটি বাসিন্দার ইন্দোনেশীয় দ্বীপ সুমাত্রায় সাইক্লোনের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, আরও ১০ জন নিখোঁজ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও বাড়ির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে, বলেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় আবহাওয়ার এ ভয়াবহ রূপের পেছনে ফিলিপিন্সের টাইফুন কোটো ও মালাক্কা উপকূলে সাইক্লোন সেনইয়ারের অস্বাভাবিক গঠন মূল ভূমিকা রেখেছে।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানি গরম হয়ে মৌসুমী ঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে এ ধরনের চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা বারবার নিয়ে আসতে পারে, বলছেন তারা।