Published : 14 Nov 2025, 01:36 AM
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতারণার অভিযোগে এক মা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের একজন নিজেকে ‘ভবিষ্যৎবক্তা’ এবং অপরজন নিজেকে‘ফেং শুই মাস্টার’ বলে দাবি করেছিলেন।
এই ভাগ্যগণনা আর প্রাচীন চীনা প্রথার ফেং শুই পরামর্শের আড়ালে প্রায় ৭ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আত্মসাতের অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
বুধবার সিডনির উপকণ্ঠে ডোভার হাইটস থেকে ৫৩ বছর বয়সী ওই নারী ও তার ২৫ বছর বয়সী মেয়েকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তারা দুজনই খুবই সুসংগঠিত প্রতারণা ও অর্থপাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
মা নিজেকে ভাগ্যগণক দাবি করে ভুক্তভোগীদেরকে ঋণ নিতে রাজি করাতেন। ভুক্তভোগীদের বোঝাতেন যে, তিনি তাদের ভবিষ্যতে একজন ‘ধনকুবের’ দেখতে পাচ্ছেন।
বুধবার সকালে মা-মেয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আর্থিক নথি, মোবাইল ফোন, বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ, ৪০ গ্রামের একটি স্বর্ণবার (মূল্য ১০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার), ও ৬৬০০ ডলারের ক্যাসিনো চিপ জব্দ করেছে।
অভিযুক্ত নারীকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর তাকে জামিন দেওয়া হয়নি। তবে তার মেয়েকে জামিন দিয়ে জানুয়ারিতে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মায়ের বিরুদ্ধে ৩৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে আছে অপরাধী চক্র পরিচালনা ও প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ। মেয়ের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সাতটি অভিযোগ, যার মধ্যে রয়েছে বেপরোয়াভাবে অপরাধের অর্থ লেনদেন করা এবং অপরাধী দলের সদস্য হওয়া।
তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার আরও ১৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার সমমূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর আগে এই চক্রের বিরুদ্ধে গত বছর শুরু হওয়া তদন্তে ৬০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মা তার অপরাধী চক্রের একজন প্রভাবশালী এবং বিশ্বস্ত সদস্য। ভবিষ্যৎবক্তা হিসেবে তিনি তার মক্কেলদের ভবিষ্যৎ গণনা করে দিতেন। এই মক্কেলদের অনেকে নিজেদের আর্থিক সংকটের কথাও তার কাছে বলতেন।
তখন তিনি তাদের বোঝাতেন যে, খুব শিগগিরই একজন ধনকুবের এসে তাদের সাহায্য করবেন। আর সেটি তাড়াতাড়ি ঘটবে যদি তারা ঋণ নেয়। এইভাবে তিনি মানুষকে ঋণ নিতে প্রলুব্ধ করতেন এবং সেই অর্থের একটি অংশ নিজে রেখে দিতেন।
বুধবারের গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। এর আগে একই মামলায় আরও ৬ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ হয়েছিল। গত বছর এই তদন্ত শুরু হয় ‘স্ট্রাইক ফোর্স মাইডলটন’ নামের এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি চুরি করা পরিচয় কাজে লাগিয়ে ‘ঘোস্ট কার’ বা অস্তিত্বহীন বিলাসবহুল গাড়ির নামে ভুয়া ঋণ নিচ্ছিল।
আর্থিক অপরাধ দমন বিভাগের প্রধান গোর্ডন আরবিনজা বলেন, “যা শুরু হয়েছিল গাড়ি ঋণে প্রতারণার তদন্ত হিসেবে, তা এখন পরিণত হয়েছে আমার পুরো ক্যারিয়ারে দেখা সবচেয়ে জটিল আর্থিক অপরাধ চক্রগুলোর একটিতে।”
স্থানীয় গণমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, মা-মেয়ে জুটি ‘পেন্টহাউস সিন্ডিকেট’-এর সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রের প্রধান সিডনির ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের একটি পেন্টহাউসে থাকতেন।
পুলিশের দাবি, এই চক্র অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ব্যাংকগুলোকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মীর সহায়তায় তারা সিডনিতে একাধিক সম্পত্তি কিনেছিল।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতারণা ও অর্থপাচারের একাধিক অভিযোগে তাদের বিচার চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রকে সহায়তাকারী আইনজীবী, হিসাবরক্ষক ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের দিকেও এখন নজর দেওয়া হচ্ছে।