Published : 19 Mar 2026, 05:28 PM
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে শামিল হতে এবং অবরুদ্ধ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের দেশগুলো। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসও কঠোর সুরে কথা বলেছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়া হরমুজ প্রণালির অবরোধ ভাঙতে ট্রাম্প যখন বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছিলেন, তখন খোদ আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্ররাই তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
বুধবার জার্মান আইনপ্রণেতাদেরকে চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস বলেন, ইরান যাতে প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় সে বিষয়ে তিনি একমত।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
ম্যার্ৎস বলেন, “আজ পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান কীভাবে সফল হবে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা সামনে আসেনি। ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি এবং ইউরোপীয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কিছু বলেনি।”
তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, আমরা আগে থেকে জানলে এই পথে না হাঁটার পরামর্শ দিতাম। তাই আমরা ঘোষণা দিচ্ছি যে, যুদ্ধ চলাকালীন হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আমরা কোনো সামরিক উপায়ে অংশগ্রহণ করব না।”
ইউরোপীয় নেতারা ইরানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সরাসরি জড়িত হওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ তারা মনে করছেন, এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য তাদের কাছে অস্পষ্ট এবং এটি তাদের নিজ দেশের জনগণের কাছেও চরম অজনপ্রিয়। তাই একটি অনিশ্চিত যুদ্ধের অংশ হয়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে তারা নারাজ।
ইউক্রেইন যুদ্ধ থেকে শুরু করে শুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে ট্রান্স-আটলান্টিক বা ইউরোপ-আমেরিকার সম্পর্কের টানাপড়েন আগে থেকেই চরমে। এই অবস্থায় যুদ্ধের বাইরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন তারা।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস সোমবার চ্যান্সেলরের মতোই সরাসরি বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি।” একই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর কণ্ঠেও।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা এই সংঘাতের কোনও পক্ষ নই।”