Published : 10 Feb 2026, 09:45 PM
ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের স্মৃতিকথা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। বইটি বাজারে আসার আগেই এর পান্ডুলিপির কপি ছড়িয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক, বইয়ের ছাড়পত্র দিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের বিলম্ব, লোকসভায় শাসকদলের সঙ্গে বিরোধীদলের সংঘাত- সব মিলিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শিরোনামে নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিগ্রন্থ, ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’।
অবশেষে বইটি নিয়ে চলা দীর্ঘ বিতর্কের মধ্যেই নীরবতা ভাঙলেন নারাভানে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তার বইটির কোনও অনুমোদিত কপি বাজারে আসেনি। এই দাবির সপক্ষে প্রকাশনা সংস্থার একটি বিবৃতিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে প্রকাশ করেছেন নারাভানে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বইটির একটি কথিত পিডিএফ কপি ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে। দিল্লি পুলিশ জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই বইটির টাইপ সেট করা কপি অনলাইনে ফাঁস হয়েছে।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয় তেমনি অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ দায়ের করে এফআইআর। সব মিলিয়ে অপ্রকাশিত বইটিকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।
এই বিতর্ক কেবল আইনি গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবনেও। গত সপ্তাহে ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে পার্লামেন্টের বাইরে বইটির একটি কথিত কপি হাতে দেখা যাওয়ার পরই শোরগোল শুরু হয়।
রাহুলের দাবি, এই বইয়ে এমন কিছু তথ্য আছে যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলবে। আর তাই প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় আসতে ভয় পাচ্ছেন। পাল্টা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, বইটির প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও ছাড়পত্র এখনও দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে অশান্তির জেরে পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশন থেকে আটজন সাংসদকে সাসপেন্ডও করা হয়। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেয়নি।
একদিকে আইনি তদন্ত, অন্যদিকে, পার্লামেন্টে অচলাবস্থা - সব মিলিয়ে জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বই কেবল প্রকাশনার বিষয়ই নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশনা সংস্থা ‘পেঙ্গুইন ব়্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া’ একটি বিবৃতি জারি করেছে। সেই বিবৃতিটিই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে প্রকাশ করেছেন জেনারেল নারাভানে।
পেঙ্গুইন এদিন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনও বইয়ের প্রি-অর্ডার ঘোষণা করা এবং বইটি প্রকাশিত হওয়া, দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। প্রকাশনা সংস্থাটির দাবি, নারাভানের স্মৃতিকথার একমাত্র প্রকাশনা স্বত্ব তাদের হাতেই আছে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি এবং কোনও কপি বিক্রি বা বিতরণের জন্য বাজারে ছাড়া হয়নি। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে বইটির কিছু অংশ বা ডিজিটাল কপি ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিয়ে সোমবারই একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে এ বিষয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে পেঙ্গুইন। তাদের মতে, ডিজিটাল বা প্রিন্ট— যে কোনও ভাবেই বইটির কপি ছড়িয়ে দেওয়া কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।
প্রকাশনা সংস্থার এই বিবৃতিই শেয়ার করে সাবেক ভারতীয় সেনাপ্রধান নারাভানে ক্যাপশনে লিখেছেন, “বইটির বর্তমান স্ট্যাটাস বা অবস্থা এটাই।”
অর্থাৎ, তিনি স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বইটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এ বিষয়ে প্রকাশনা সংস্থা এবং তার অবস্থান এক। বাজারে বা অনলাইনে ঘুরতে থাকা কপিগুলো ভুয়া বা অননুমোদিত।