Published : 10 Dec 2025, 01:13 AM
পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। সেখানে তোলা হয়েছে ইসরায়েলের পতাকাও।
কর না দেওয়ায় সদরদপ্তরটিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইউএনআরডব্লিউএ এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ বলে নিন্দা করেছে।
জেরুজালেম পৌরসভা বলেছে, কর সংগ্রাহকরা সম্পত্তির বকেয়া ১ কোটি ১০ লাখ শেকেল কর আদায় করতে ইউএনআরডব্লিউএ- এর কার্যালয়ে ঢুকেছিল।
এর আগে জাতিসংঘ সংস্থাটিকে করের বিষয়টি মীমাংসা করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে জানায় পৌরসভা।
ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ এবছরের শুরুর দিকে জাতিসংঘ সংস্থাটির সব অফিস খালি ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ভবনটি ব্যবহার করতে পারেনি ইউএনআরডব্লিউএ।
ইসরায়েলের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের হামলায় জাতিসংঘ সংস্থার কিছু কর্মী জড়িত ছিল।
এ অভিযোগেই ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ সংস্থাটির সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। তবে জাতিসংঘ সংস্থাটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) জানায়, ইসরায়েলের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
ইউএনআরডব্লিউএ- এর মুখপাত্র জোনাথন ফ্লাওয়ার বলেছেন, ইসরায়েল জাতিসংঘ সংস্থাটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পরও জেরুজালেমের কম্পাউন্ডটি জাতিসংঘ দপ্তর হিসাবে রয়ে গিয়েছে। কম্পাউন্ডটি এবছর খালি করে দেওয়া হয় এবং পৌরসভার কাছে তাদের কোনও দেনা নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ-এর কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি জানান, সোমবার ইসরায়েলি পুলিশ পৌরসভার কর্মকর্তাদের নিয়ে শেখ জারাহ এলাকায় সংস্থার প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে।
আসবাবপত্র, তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জামসহ নানা জিনিসপত্র জব্দ করে তারা। জাতিসংঘের পতাকা নামিয়ে সে জায়গায় ইসরায়েলের পতাকা তুলে দেয়।
লাজারিনি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ-এর সদরদপ্তরে এই হানা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে এটিই প্রকাশ পেয়েছে যে, সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘ স্থাপনার নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষার যে বাধ্যবাধকতা ইসরায়েলের আছে, তারা তা উপেক্ষা করেছে।