Published : 25 Jun 2026, 01:43 PM
দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে সংসদ সদস্যের এক প্রশ্নের জবাবে ৮৮০টি এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো থাকার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ৩১০টি হাসপাতালে প্রায় ৪৮৫টি এক্স-রে মেশিন এবং ২৫২টি হাসপাতালে প্রায় ৩৯৫টি আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হলে মন্ত্রীর লিখিত জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার, নার্স ও ওষুধের ঘাটতির হার; অকেজো এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের সংখ্যা; এবং গ্রামের রোগীকে শহরে রেফার করার প্রধান কারণ জানতে চেয়েছিলেন।
মন্ত্রীর জবাবে বলা হয়, অকেজো এক্স-রে মেশিনের প্রায় ৪০ শতাংশ মেরামত অযোগ্য। বাকি ৬০ শতাংশ মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে।
আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের ক্ষেত্রে বলা হয়, অকেজো মেশিনের প্রায় ৩৫ শতাংশ মেরামত অযোগ্য। বাকি ৬৫ শতাংশ মেরামতযোগ্য এবং সেগুলো মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে।
ডাক্তার, নার্স ও ওষুধের ঘাটতির হার জানতে চাওয়া হলেও জবাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জনবল শূন্যতার হার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন হওয়ায় তা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়।
ওষুধ সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে চাহিদাভিত্তিক ক্রয় ও বিতরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে স্থানীয় চাহিদা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং রোগীর চাপের কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
গ্রামের রোগীকে শহরে পাঠানোর প্রধান কারণ জানতে চাওয়া হলেও মন্ত্রীর জবাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আসেনি।
বছরে নতুন ক্যান্সার রোগী ১ লাখ ৬৭ হাজার
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা এবং তাদের চিকিৎসার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের পরিকল্পনা জানতে চান।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা আইএআরসি প্রকাশিত গ্লোবোক্যান ২০২২ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হন।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন ক্যান্সারে মারা যান। আর বর্তমানে আনুমানিক ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন ক্যান্সার রোগী জীবিত রয়েছেন অথবা চিকিৎসাধীন আছেন।
মন্ত্রীর জবাবে বলা হয়, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার এবং পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সার ও মুখ-ঠোঁটের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।
ক্যান্সার রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মাধ্যমে পপুলেশন-বেইজড ক্যান্সার রেজিস্ট্রি এবং হসপিটাল-বেইজড ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চলছে বলেও জানানো হয়।
ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট হচ্ছে ৮ বিভাগে
ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগীয় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন বলে সংসদকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি এবং সার্জিক্যাল অনকোলজি সেবা সম্প্রসারিত হবে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল দেশের প্রধান বিশেষায়িত ক্যান্সার চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে; প্রতিষ্ঠানটির শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নও চলমান রয়েছে বলে জবাবে জানানো হয়।
তবে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হলেও জবাবে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি।
নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ৫৪০টি
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা এবং নতুন ক্লিনিক বৃদ্ধির পরিকল্পনা জানতে চান।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।
তবে নতুন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে বর্তমান সক্ষমতা এবং সম্পদের সঠিক বণ্টনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক নেই এমন শূন্য ওয়ার্ডে জমি প্রাপ্তি এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে আরও ৫৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।