কারাবাখে আজারবাইজানের আক্রমণ থামানোর আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2024, 11:28 AM
Updated : 23 Jan 2024, 11:28 AM

আর্মেনিয়া নিয়ন্ত্রিত নাগোরনো-কারাবাখে আক্রমণ থামানোর জন্য আজারবাইজানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চলটিতে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়াও।

দক্ষিণ ককেশাসের নাগোরনো-কারাবাখে কয়েকমাস ধরেই উত্তেজনা বাড়ছিল। বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মঙ্গলবার সেনা পাঠায় আজারবাইজান, গোলন্দাজ বাহিনীর ছত্রছায়ায় তাদের সেনারা সেখানে অভিযান শুরু করে।

কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু এর নাগোরনো-কারাবাখ অংশটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আর্মেনীয়দের নিয়ন্ত্রণে আছে, তারাই এটি শাসন করে। এটাকে পিতৃভূমি বলে দাবি করে আসছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। পাশিনিয়ানকে আর্মেনিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা জানালেও আলিয়েভকে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্লিনকেন বলেন, “আমি আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের সঙ্গে কথা বলেছি, তাকে অবিলম্বে নাগোরনো-কারাবাখে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি।”

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলিয়েভ শত্রুতা বন্ধে এবং নাগোরনো-কারাবাখের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ‘প্রস্তুত থাকার কথা’ জানিয়েছেন।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে আর্মেনিয়া বিশাল অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল, কিন্তু ২০২০ সালে ছয় সপ্তাহের আরেক যুদ্ধে আজারবাইজান অধিকাংশ অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে; রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সেই যুদ্ধের অবসান হয়।

নাগোরনো-কারাবাখে আজারবাইজানের সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট এই দ্বন্দ্বে আর্মেনিয়াও যদি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পূর্ণ মাত্রার একটি যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। কারাবাখ অঞ্চলের লড়াই দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যও পাল্টে দিতে পারে।  

ইউক্রেইনে যুদ্ধরত রাশিয়া বুধবার উভয়পক্ষকে রক্তপাত ও শত্রুতা বন্ধ করে ২০২০ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছে। আজারবাইজানকে সমর্থন দেওয়া তুরস্ক দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে নিজেদের তৎপরতা বৃদ্ধি করে চলেছে। 

নাগোরনো-কারাবাখের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার আজারবাইজানের আক্রমণে দুই বেসামরিকসহ ২৭ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদসূত্র: রয়টার্স 

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)