Published : 27 Apr 2026, 04:45 PM
বিদ্রোহ দমনে মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় ডাকা বিক্ষোভ চলাকালে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকরা।
সোমবারের এ বিক্ষোভে ওই অঞ্চলের কয়েকশ বাসিন্দা অংশ নেন বলে এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চলতি মাসের শুরুতে ওই অঞ্চলে হওয়া এক সামরিক অভিযানে নারী-শিশুসহ ১৫ জন নিহত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পাপুয়ায় সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ওই অভিযান হয়েছিল।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ডাচ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৬৯ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হওয়া এক ভোটে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যায়। তখন থেকেই প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটির স্বাধীনতা চাইছে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার ওয়াচডগ গত সপ্তাহে সেনা অভিযানে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং সরকারকে ওই অঞ্চলে অভিযানের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার আহ্বান জানায়। সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত তাদের অভিযানে নারী-শিশু হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়নি।
সোমবার প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারী পাপুয়ার রাজধানী জয়াপুরার তিনটি স্থানে সমাবেশ শেষে শহরের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হন, বলেছেন পাপুয়া প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র কাহইয়ো সুকার্নিতো।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের প্রতি পাপুয়ার ছয় প্রদেশের সবক’টি থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং দশকেরও বেশি ধরে চলমান সহিংসতার অবসান নিশ্চিত করতে বলে, সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের বিক্ষুব্ধ করেছে স্বীকার করে নিয়ে রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন কাহইয়ো।
তিনি জানান, একটি স্থানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়লে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সেখানে সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হলেও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যম ত্রিবুন পাপুয়ার ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের হাতে ব্যাটন দেখা গেছে।
সংঘর্ষ থিতিয়ে আসার পর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলেছে এবং অঞ্চলটির একাধিক আইনপ্রণেতা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি শুনেছেন।
পাপুয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ও তামার খনি গ্রাসবার্গের অবস্থান; এটি ইন্দোনেশিয়ার সরকার ও মার্কিন খনিজ কোম্পানি ফ্রিপোর্টের যৌথ মালিকানাধীন খনি।