Published : 11 Jun 2026, 07:16 PM
সাধারণ মানুষের মনে এতদিন বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, ডেঙ্গু বর্ষাকালের রোগ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসকে সাধারণত ডেঙ্গু মৌসুম বলে ধরে নেওয়া হত। এরপর ডেঙ্গু বিদায় নেয় বলেই ভাবা হত।
কিন্তু ভারতের চিকিৎসকরা সাফ জানিয়েছেন, এই ধারণা এখন বদলেছে। ডেঙ্গু এখন আর কোনও নির্দিষ্ট ঋতুর রোগ নয়, বরং এখন এটি বারোমাসের স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মে মাসে তীব্র জ্বর এসেছিল ভারতীয় নিতিন শর্মার। তখন ডেঙ্গুর কথা তার মাথায়ই আসেনি। মৌসুমি বায়ু আসতে তখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি ছিল।
নয়া দিল্লির উপকণ্ঠের ব্যবসায়িক এলাকা গুরুগ্রামের ৩২ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার প্রকৌশলী অন্য অনেক ভারতীয়র মতোই বড় হয়েছেন এই বিশ্বাস নিয়ে যে, ডেঙ্গু হল এমন এক রোগ যা বৃষ্টির সঙ্গে আসে এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই চলে যায়।
তাই মাথাব্যথা, তীব্র শরীর ব্যথা এবং অবসাদ নিয়ে যখন তিনি গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান, তখন ভেবেছিলেন এটি সাধারণ কোনো ভাইরাল ইনফেকশন।
নিতিন শর্মা বলেন, “আমি ভেবেছিলাম এটি কোনো মৌসুমি জ্বর। আমার পরিবারের কেউ ডেঙ্গুর কথা ভাবেনি, কারণ তখন বর্ষাকাল ছিল না।”
কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তার ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করেন। জ্বর কমে যাওয়ার পরও দুর্বলতা ও অবসাদ থেকে যাওয়ায় নিতিন শর্মাকে প্রায় দুই সপ্তাহ কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে এ রোগের সময়টা। আগে এপ্রিলে কারও জ্বর হলে ডেঙ্গুর কথা আমরা সবার শেষে ভাবতাম।”
রোগের আচরণে বড় পরিবর্তন:
ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, নিতিন শর্মার এই অভিজ্ঞতা এখন অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেরালা রাজ্যে মৌসুমি বায়ু পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহ আগেই বেশ কয়েকটি রাজ্যের হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু সংক্রমণের খবর দিতে শুরু করে।
বিজ্ঞানীরা একে মশা বাহিত এই অন্যতম মারাত্মক রোগের আচরণগত বড় পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং দ্রুত নগরায়নের কারণে ডেঙ্গু বহনকারী মশা এখন দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকছে এবং আগের চেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে।
ফলে একসময়ের মৌসুমী এই রোগটি ধীরে ধীরে বছরজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
হরিয়ানার মহর্ষি মার্কণ্ডেশ্বর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. হর্ষদীপ জোশী আল জাজিরাকে বলেন, “রোগটি এখন আর শুধু বর্ষা-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রথাগত মৌসুমের বাইরেও এখন প্রচুর রোগী পাওয়া যাচ্ছে এবং সংক্রমণের সময়কাল ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।”
কয়েক দশক ধরে ভারতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব একটি নির্দিষ্ট চক্র মেনে চলত। বর্ষার সময় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করত, ভারি বৃষ্টির পর তা চূড়ায় পৌঁছাত এবং তাপমাত্রা কমলে সংক্রমণ কমে যেত।
কিন্তু এখন সেই চেনা চিত্র বদলে যাচ্ছে। মৌসুমি বায়ু শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন শহরের হাসপাতালগুলোতে সন্দেহজনক ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির খবর পাওয়া যায়।
'ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বোর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোল' (এনসিভিবিজিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ভারতে ৬,৯২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রেকর্ড করা হয়েছে। বছরের প্রথম দুই মাসের এই পরিসংখ্যানটি অস্বাভাবিক আগাম সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথ’ স্টাডিতে উল্লেখ করা এনসিভিবিজিসি-এর তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২১ সালের সম্পূর্ণ জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত যেখানে ৬,৮৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ২০২২ সালের একই মেয়াদে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০,১৭২।
অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসের পরিসংখ্যানটি ২০২১ সালের প্রথম পাঁচ মাসের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০২২ সালের শুরুর দিকের সংকটের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।
মহামারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ঐতিহাসিকভাবে ভারতে জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই মৌসুমি ব্যবধান কমে এসেছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে (২,৮৭৩ জন)। এরপর রয়েছে যথাক্রমে মহারাষ্ট্র (৭৮৬), কেরালা (৬৭০) এবং কর্ণাটক (৫৬০)।
উষ্ণ জলবায়ু, মশার বংশবৃদ্ধির দীর্ঘ সময়কাল এবং কিছু ক্ষেত্রে উন্নত রোগ নির্ণয় ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার কারণে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে সাধারণত বছরের শুরুতে বেশি সংক্রমণ দেখা যায়। সামগ্রিক তথ্য ইঙ্গিত করে যে, আগের চক্রগুলোর তুলনায় এখন ডেঙ্গু সংক্রমণ অনেক আগে শুরু হচ্ছে এবং সারা বছর ধরে স্থায়ী হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা ও জাতীয় ক্ষয়ক্ষতি:
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি ছিল। ২০২৩ সালে রেকর্ড ২,৮৯,২৩৫ জন আক্রান্ত এবং ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতি।
২০২৪ সালে ভারতে ২,৩৩,৫১৯ জন আক্রান্ত এবং ২৯৭ জনের মৃত্যু হয়। আর ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমে ১,২১,৮২৪ জন আক্রান্ত এবং ১৩১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ওঠানামা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের চক্রাকার বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন। বড় কোনো প্রাদুর্ভাবের বছরে কোনো নির্দিষ্ট রূপের (সেরোটাইপ) বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় পরবর্তী বছরগুলোতে সাময়িকভাবে সংক্রমণ কমে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি ডেঙ্গুর ভৌগোলিক ও মৌসুমি বিস্তারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাকে ভুল প্রমাণ করে না।
জলবায়ুর তারতম্য, নগরায়ন এবং মশার বাস্তুসংস্থানের পরিবর্তনের কারণে এই বিস্তার বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত বর্ষার শুরুতে যে নজরদারি ব্যবস্থা শুরু হত, তা এখন অনেক আগেই শুরু করা প্রয়োজন।
হরিয়ানার সাবেক স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. এস এম কাদরি বলেন, “আগে আমরা মূলত বর্ষার মাসগুলোতে প্রস্তুতি নিতাম। কিন্তু এখন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায় পুরো বছরই সতর্ক থাকতে হচ্ছে।”
শ্রীনগরের চিকিৎসক ড. আবাইর হুসাইন জানান, ২০২৫ সালে ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসকে ভাইরাসের পিছু হটা ভাবা ঠিক হবে না। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, প্রচলিত সেরোটাইপের পরিবর্তন এবং স্থানীয় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে ডেঙ্গু সংক্রমণ বছর বছর ওঠানামা করে।
শহুরে জীবনযাত্রা ও পানি জমানোর অভ্যাস ডেঙ্গু বারোমাসের সমস্যা হয়ে ওঠার জন্য দায়ী। আধুনিক বহুতল বা ফ্ল্যাট কালচারে এয়ার কুলার, বালতি, কনস্ট্রাকশন সাইট, ছাদের জলের ট্যাঙ্ক, খালি টব বা তার নীচের ট্রে কিংবা ব্লক হয়ে যাওয়া ড্রেনে সারাবছরই কোথাও না কোথাও পানি জমে থাকে, যা ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশাদের স্থায়ী বাসস্থান হয়ে উঠেছে।।
জলবায়ু, দূষণ ও রোগের তীব্রতা:
২০২৬ সালে 'এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন' (এলসেভিয়ার) সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণা দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের সঙ্গে ডেঙ্গুতে উচ্চ মৃত্যুহারের তীব্র সংযোগ রয়েছে।
গবেষণাটি পিএম২.৫-এর ওপর আলোকপাত করেছে, যা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যাওয়ার মতো সূক্ষ্ম কণা। এতে দেখা গেছে, যেসব দেশে পিএম২.৫ দূষণের মাত্রা বেশি, সেখানে পরিষ্কার বাতাসের দেশের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে বার্ষিক পিএম২.৫ এর গড় সীমা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করেছে, উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে দূষণের মাত্রা তার চেয়ে অনেক বেশি।
গবেষকেরা আরও দেখেছেন যে মানুষের আয়, জনসংখ্যার ঘনত্ব, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরও বায়ুদূষণ ডেঙ্গুর মারাত্মক অবস্থার জন্য একটি স্বাধীন কারণ হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি বা প্রদাহের (সিস্টেমিক ইনফ্লেমেশন) মাধ্যমে ডেঙ্গুর ফল আরও খারাপ করতে পারে।
বায়ুদূষণ ও ডেঙ্গুর মৃত্যুহার বিষয়ক এই গবেষণার প্রধান লেখক সাকিরুল খান বলেন, “সূক্ষ্ম কণা বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং রক্তনালীকে দুর্বল করে দেয়। ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে জলবায়ু ও আর্থ-সামাজিক সংকটের সঙ্গে এটি যুক্ত হলে সংক্রমণের তীব্রতা এবং মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।”
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে ডেঙ্গু সংক্রমণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ করে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের ধরন এবং আর্দ্রতার দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
বর্ষা চলে যাওয়ার পরও যদি সামান্য বৃষ্টি হয় এবং তার সঙ্গে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতা থাকে, তবে তা মশার বেঁচে থাকার জন্য একদম আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
তাছাড়া, বিশ্ব উষ্ণায়ন বা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে মশার প্রজনন চক্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বেশি গরমে মশার শরীরের ভিতরে ডেঙ্গু ভাইরাস দ্রুত বেড়ে উঠছে। এর ফলে মশারা খুব কম সময়ের মধ্যে এবং অনেক বেশি সংখ্যায় মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা অর্জন করছে।
'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত পুনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণায় দেখা গেছে, ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা, ৬০ থেকে ৭৮ শতাংশ আর্দ্রতা এবং পরিমিত ও সুষম বর্ষার বৃষ্টিপাত এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
এতে আরও দেখা গেছে যে, অতিবৃষ্টির ফলে মশার প্রজননস্থলগুলো ধুয়ে মুছে যাওয়ার কারণে সংক্রমণ সাময়িকভাবে হ্রাস পেতে পারে। এই মডেলটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী দশকগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ:
ওদিকে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারত সরকার সম্প্রতি জাপানের টোকিও ভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাকেদা-র তৈরি ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ‘কিউডেঙ্গা’-র অনুমোদন দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি উৎপাদনের জন্য তারা হায়দরাবাদের ভারতীয় টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'বায়োলজিক্যাল ই'-র সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে।
একই সময়ে, ভারতের শীর্ষ চিকিৎসা গবেষণা সংস্থা 'ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ' (আইসিএমআর) এবং নয়া দিল্লির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'প্যানাসিয়া বায়োটেক' যৌথভাবে ভারতের প্রথম নিজস্ব একক ডোজের ডেঙ্গু টিকার পরীক্ষা শেষ করেছে।
‘ডেঙ্গিঅল’ নামের এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভারতজুড়ে ১০,৩৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে এবং অনুমোদনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পরিসরে মানুষের ওপর এই তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয়।
এছাড়া সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াও তাদের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট 'টেট্রাভ্যাক্স-ডিভি'-এর তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছে। গবেষকেরা আশা করছেন, এই প্রচেষ্টাগুলোর মাধ্যমে এমন একটি সাশ্রয়ী ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে যা ডেঙ্গুর চারটি রূপেরই মোকাবিলা করতে পারবে।
ভারতে এই চারটি সেরোটাইপ বা ভিন্ন জেনেটিক স্ট্রেইনই একসঙ্গে সক্রিয় থাকে, তাই পুনরায় সংক্রমণ এবং গুরুতর অসুস্থতা রোধে সব কটি রূপের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, শুধু টিকাদানের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. গগনদীপ কাং বলেন, “একটি কার্যকর টিকা এলেও মশা নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি চালানো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
ড. কাদরিও সহমত পোষণ করে বলেন, এর কোনো একক সমাধান নেই; মশা নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটেশন, রোগ নজরদারি, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, সবকিছুরই সমান প্রয়োজন।
ওদিকে গুরুগ্রামের নিতিন শর্মা জানান, এই অসুস্থতা ডেঙ্গু সম্পর্কে তার চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছে।
তিনি এখন মৌসুম নির্বিশেষে সারা বছরই ঘরে মশা তাড়ানোর ওষুধ রাখেন এবং টব, ছাদের ট্যাংক বা পানির পাত্রে পানি জমে আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করেন। তিনি বলেন, “এখন মনে হয় এই রোগটি যে কোনও সময়ই হতে পারে।”