Published : 08 Dec 2025, 09:53 PM
লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পরিচালনায় ‘গুরুতর দুর্বলতার’ কারণে এটি সরকারি হস্তক্ষেপ চক্রে আটকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন একজন অডিটর।
মেয়র লুৎফুর রহমানের অ্যাসপায়ার পার্টির নেতৃত্বাধীন এ কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক আবাসন ব্যবস্থাপনায় ‘বিশাল পরিবর্তন’সহ ১০টি সমস্যা চিহ্নিত করেছে অডিট কোম্পানি ইওয়াই (আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং)।
লোকাল ডেমোক্রেসি রিপোর্টিং সার্ভিস বলছে, ইওয়াই এর প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন হ্যালসি। অডিট কোম্পানিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে লেবার কাউন্সিলর মার্ক ফ্রান্সিস টাওয়ার হ্যামলেটস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতার’ অভিযোগ তুলেছেন। ফ্রান্সিস বলেন, কাউন্সিল নেতৃত্বের ‘অতিরিক্ত ইতিবাচক মনোভাব’ কম রাখা প্রয়োজন।
ইওয়াই এর প্রতিবেদন বলছে, গত এপ্রিলে টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) তার দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর থেকে তার স্থলে স্থায়ীভাবে কাউকে খুঁজে পেতে কাউন্সিলের চেষ্টা বা উদ্যোগ ধীর ছিল।
২০২৩ সালে আবাসন ব্যবস্থাপনা পরিষেবা অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণ করার পরপরই সামাজিক আবাসনের নিয়ন্ত্রকের কাছে সেটি তুলে ধরা উচিত ছিল কাউন্সিলের। তবে কাউন্সিলের আবাসন করপোরেট ডিরেক্টর বলছেন, কাউন্সিল যে সময়সীমা নিয়েছে, সেটিও ‘অযৌক্তিক’ ছিল বলে তিনি মনে করেন না।
আর কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী হ্যালসি বলেন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারের কারণে টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার (সিএফও) দায়িত্বে কাউকে বসাতে বেগ পেতে হয়েছে।
ইওয়াই এর প্রতিবেদনে কাউন্সিলের অন্যান্য দুর্বলতার মধ্যে চুক্তির ক্রয়পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার প্রক্রিয়ায় দুর্বলতার কথাও বলা হয়েছে।
বুধবার ইওয়াই এর প্রতিবেদন কাউন্সিলের অডিট কমিটির কাছে তুলে ধরা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ওই অডিট করেছে কোম্পানিটি। কাউন্সিল নিয়ে করা অডিটকে তারা ‘সি-থ্রি’ গ্রেডে ফেলেছে, যা চারটি গ্রেডের মধ্যে খারাপের দিক থেকে দ্বিতীয়।

ইওয়াই অংশীদার স্টিফেন রেইড কাউন্সিলরদের বলেন, প্রতিবেদনে যে সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে তা অনেক বছর ধরেই কাউন্সিলে রয়েছে। তবে যে পরিমাণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেই তুলনায় উন্নতির গতি নেই।
“জরুরিভিত্তিতে টেকসই উদ্যোগ আর সুস্পষ্ট জবাবদিহি না থাকলে সীমিত আশ্বাস ও আইনি হস্তক্ষেপের চক্রে রয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কাউন্সিলের।
গত জানুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে হস্তক্ষেপে উচ্চ পর্যায়ের দূত পাঠিয়েছিল সরকার। স্থানীয় শাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তদন্তকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করলে তখন হস্তক্ষেপ করে সরকার।
টাওয়ার হ্যামলেটস নিয়ে ২০২৪ সালে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয়, রাজনৈতিক দল ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আস্থা ও শ্রদ্ধার সংকটের কারণে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহীরা জবাবদিহির বাইরে থেকে যাচ্ছেন। আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মেয়র লুৎফুর রহমানকে ঘিরে একটি অভ্যন্তরীণ বলয় তৈরি হয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসে ভোট জালিয়াতির দায়ে ২০১৫ সালে নাটকীয় ক্ষমতাচ্যুতি হয়েছিল লুৎফুর রহমানের।
২০১০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ বারা কাউন্সিলে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন লুৎফুর। এরপর ২০১৪ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র হন তিনি। তবে ওই ভোটে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং তাকে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এ কারণে পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
নিষেধাজ্ঞা উঠলে ২০২২ সালে মেয়র পুনর্নির্বাচিত হন লুৎফুর রহমান।
লেবার কাউন্সিলর মার্ক ফ্রান্সিস বলেন, ইওয়াই এর প্রতিবেদনে যে দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটি আগেই উত্থাপন করেছিল অডিট কমিটি। আরেক লেবার কাউন্সিলর আসমা ইসলাম অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাউন্সিলের দেওয়া আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।