Published : 19 Sep 2025, 12:21 PM
টিভি নেটওয়ার্ক এবিসির হোস্ট জিমি কিমেলের শো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা নিয়ে বিতর্কে আমেরিকার সম্প্রচারমাধ্যম নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের পক্ষ নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কিছু টিভির লাইসেন্স ‘কেটে দেওয়া উচিত’।
রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রচারক চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিমেলের মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর ডিজনি মালিকানাধীন এবিসি বুধবার সন্ধ্যায় ওই কমেডিয়ানের শো ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য সরিয়ে রাখার ঘোষণা দেয়।
কার্কের সন্দেহভাজন হত্যাকারী ‘মাগা (মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) রিপাবলিকান হতে পারেন’ বলে সোমবারের অনুষ্ঠানে কিমেলকে ইঙ্গিত করতে দেখা যায়; যদিও ইউটাহ কর্তৃপক্ষ বলছে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন বন্দুকধারী টাইলার রবিনসন ‘বামপন্থি মতাদর্শে দীক্ষিত’।
কিমেলের ওই মন্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর এবিসি ‘জিমি কিমেল লাইভ’ অনুষ্ঠানটি নামিয়ে নেয়, বলছে বিবিসি।
রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে যাওয়া ট্রাম্প দেশে ফেরার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন।
“কোথায় যেন পড়েছি (টিভি) নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে ৯৭% আমার বিরুদ্ধে, ফের বলি, ৯৭% নেতিবাচক, তারপরও আমি সহজেই (গত বছরের নির্বাচনে) জিতেছি, দোদুল্যমান ৭ রাজ্যের সবগুলোতে।
“তারা, সংবাদমাধ্যম কেবল আমার নেতিবাচক প্রচারণা করে। তারা লাইসেন্স পাচ্ছে। আমার মনে হয়, তাদের লাইসেন্স হয়তো বাতিল করা উচিত,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সোমবারের অনুষ্ঠানে ৫৭ বছর বয়সী কিমেল বলেছিলেন, কার্কের সন্দেহভাজন খুনিকে ‘নিজেদের বর্গের বাইরের কেউ’ বানাতে ও এই হত্যাকাণ্ড থেকে ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ নিতে ‘মাগা গ্যাং’ প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে।
৩১ বছর বয়সী রাজনৈতিক মিত্রের মৃত্যুতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াকে ‘গোল্ডফিশের জন্য চার বছর বয়সী বাচ্চার শোক’ বলেও ব্যঙ্গ করেছিলেন এ টিভি হোস্ট।
তবে কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর কিমেল ইনস্টাগ্রামে ওই ঘটনার নিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা ব্যক্ত করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এফসিসি চেয়ারম্যান ব্র্যান্ডন কার বলেছেন, কিমেলের অনুষ্ঠান সরিয়ে নেওয়াতেই ‘ঘটনার শেষ হচ্ছে না’।
“আমরা এসব সম্প্রচারমাধ্যমকে জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার কাজ চালিয়ে যাবো। আর যদি কারও এই সাধারণ সমাধান পছন্দ না হয়, তারা তাদের লাইসেন্স এফসিসিকে ফেরত দিতে পারে,” বলেছেন তিনি।
এবিসির মতো প্রধান প্রধান নেটওয়ার্ক এবং তাদের স্বাধীন সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে এফসিসির। কিন্তু ফক্স বা এমএসএনবিসির মতো কেবল চ্যানেলগুলোর ব্যাপারে তাদের ক্ষমতা সীমিত। পডকাস্ট বা স্ট্রিমিং কনটেন্টের ক্ষেত্রে তাদের কোনো ধরনের এখতিয়ার নেই।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাকস্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেওয়া মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর কারণে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ভিত্তিতে এফসিসি আইনিভাবে লাইসেন্স বাতিল করতে পারে না।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম টিভি স্টেশন মালিক নেক্সটা মিডিয়া ‘নিকট ভবিষ্যতে’ জিমি কিমেলের শো না দেখানোর কথা জানানোর অল্প কিছুক্ষণ পরেই এবিসি তাদের উপস্থাপককে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
নেক্সটার কার্ককে নিয়ে কিমেলের মন্তব্যকে ‘অপমানজনক এবং আমাদের জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার সন্ধিক্ষণে অসংবেদনশীল’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।
মিডিয়া কোম্পানি টেগনার সঙ্গে ৬২০ কোটি ডলারের একীভূতি চুক্তিতে এফসিসির অনুমোদন চাওয়া নেক্সটারের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ব্র্যান্ডন কার। অন্য সম্প্রচারমাধ্যমগুলো এই পদক্ষেপ অনুসরণ করবে বলেও তার প্রত্যাশা।
কিমেলের অনুষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য লেখক, অভিনেতা এমনকী সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এই ঘটনা ‘মতের অমিলে কাউকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতিকে’ নতুন ও বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে গেছে, বলেছেন তিনি।
অনেকেই একে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন টিভি নেটওয়ার্কের হোস্টরাও কিমেলের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
“এটা নির্লজ্জ সেন্সরশিপ। এক স্বৈরাচারের সঙ্গে, আপনি এক ইঞ্চিও ছাড় দিতে পারেন না,” বলেছেন কট্টর ট্রাম্প-সমালোচক হিসেবে খ্যাত সিবিএসের হোস্ট স্টিফেন কোলবার।
জুলাইয়ে সিবিএস জানিয়েছিল, তারা পরবর্তী সিজনের জন্য দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার অনুষ্ঠানটি নবায়ন করছে না।
তবে অনেকে কিমেলের সমালোচনাও করছেন।
“যখন কেউ এমন অসভ্য ও অপমানজনক কথা বলে, এবং তার জন্য শাস্তি পায়, তখন তা ক্যান্সেল কালচার বা মতের অমিলে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতি হয় না। এটা হলো আপনার কাজের কর্মফল,” বলেছেন মিডিয়া কোম্পানি বার্স্টুল স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ডেভ পোর্টনয়।
লেট-নাইট ফক্সের হোস্ট গ্রেগ গাটফেল্ড বলছেন, কিমেল ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও বিভ্রান্ত করতে’ কার্ককে খুনের দায় তার ‘বন্ধু ও মিত্রদের’ ওপর চাপিয়েছিলেন।