Published : 30 Mar 2026, 07:42 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খার্ক দ্বীপ দখল করে ইরানের তেল নিয়ে নিতে চান।
রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফাইন্যানশিয়াল টাইম্স’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খার্ক দ্বীপের প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, ইরানের তেল নিয়ে নেওয়াই আমার প্রিয় কাজ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বসে কিছু বোকা মানুষ প্রশ্ন তুলছে, কেন আমি এটা করছি। তারা বোকা লোক।”
খার্ক দখলের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “হয়ত আমরা খার্ক দ্বীপ নিয়ে নেব। হয়ত নেব না। আমাদের অনেক বিকল্পই আছে। তার মানে এটাও হতে পারে যে, আমাদের সেখানে (খার্কে) গিয়ে কিছু সময়ের জন্য থাকতেও হবে।”
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ তীব্র হওয়ার মধ্যে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য এল। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানির বাজারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র খার্ক দ্বীপ দখল করলে ইরানের তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগবে। কারণ, ইরানের অধিকাংশ তেল এই পথেই বিদেশে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সংখ্যা বাড়াচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০০ সেনা ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে। আরও সেনা যাওয়ার পথে রয়েছে।
ইরানের প্রধান তেলভন্ডার খার্কে এর আগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিগুলো নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। তবে তেলে হাত দেওয়া হয়নি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহণে বাধা দেওয়া বন্ধ না-করলে তেলভান্ডারেও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার দেশ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভেনেজুয়েলার তেলভান্ডারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের তেলের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের তেমন পরিকল্পনা রয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের তেলভান্ডারে যুক্তরাষ্ট্র হাত দিলে সংঘাত আরও তীব্র হবে মধ্যপ্রাচ্যে। ফলে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম।