Published : 11 Mar 2026, 10:11 AM
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে সবচেয়ে তীব্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পেন্টাগন ও ঘটনাস্থালে থাকা ইরানিরা মঙ্গলবারের এই আক্রমণকে পুরো যুদ্ধের মধ্যে চালানো সবচেয়ে মারাত্মক বিমান হামলা বলে জানিয়েছে।
ইরানে এমন তীব্র হামলা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করবেন বলে বিশ্ববাজারে বাজি ধরা হচ্ছে, জানিয়েছে রয়টার্স।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ অবরুদ্ধ করে রাখবে।
রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তারা কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ ঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তানের আল হারির ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের এক সমাবেশ লক্ষ্য করে এবং বাহরাইনের জুফায়ের নৌঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ভোররাতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ফের হামলা চালানো হয়েছে। একই সময় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলজুড়ে ভোররাতের অন্ধকারের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্ক সাইরেন বেজে চলে আর ইসরায়েলিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটাছুটি শুরু করে। প্রতিরোধকারী এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিস্ফোরণে চারদিক প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি এয়ার ডিফেন্স ভেদ করে আঘাত হেনেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
ইরান যখন ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে প্রায় ওই সময়ই বৈরুতে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর আবস্থানগুলোতে তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হিজবুল্লাহ তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে লেবানন থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট নিক্ষেপ করে চলছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করলে ইরানে কঠিন আঘাত হানা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ তার ওই হুমকি পুনব্র্যক্ত করেছে।
বিশ্বের তেল-গ্যাস চাহিদার এক পঞ্চমাংশ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি হয়ে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধের কারণে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকারগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহরায় এই প্রণালি পার করা হবে বলে ট্রাম্প ফের আশ্বাস দিয়েছেন।
পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, “আজ আবারও ইরানের অভ্যন্তরে আমাদের সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন হবে। অধিকাংশ যুদ্ধবিমান, অধিকাংশ বোমারু বিমান সবচেয়ে বেশি আঘাত হানবে। (এবার) গোয়েন্দা তথ্য আগের চেয়ে আরও পরিশীলিত ও উন্নত।”
একইদিন পরে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “গত কয়েক ঘণ্টায় আমরা আঘান হেনে ইরানের ১০টি ‘নিষ্ক্রিয়’ মাইন স্থাপনকারী জাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি।”
কোথায় হামলা চালিয়ে এসব মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে, তা পরিষ্কার করেননি তিনি।
রয়টার্স তেহরানের যেসব বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে তারা ‘রাতভর সবচেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণ’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ফোনে তাদের মধ্যে একজন বলেন, “এটা নরকের মতো ছিল। তারা সব জায়গায় বোমাবর্ষণ করেছে, তেহরানের প্রতিটা অংশে। আমার সন্তানরা এখন ঘুমাতেও ভয় পাচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের সামনে কঠিন সমীকরণ: অর্থনৈতিক বিপর্যয়, না নৌ অভিযানের ঝুঁকি?