Published : 02 Dec 2025, 03:42 PM
পূর্ব চীন সাগরে ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একগুচ্ছ দ্বীপের কাছে নৌযানের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য হাজির করেছে চীন ও জাপানের কোস্টগার্ড।
চীনের কোস্ট গার্ড মঙ্গলবার বলেছে, জাপানের একটি মাছধরার নৌযান সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিল।
বেইজিং এই দ্বীপপুঞ্জকে দিয়াওয়ু দ্বীপপুঞ্জ নামে ডাকে, তারা এটিকে চীনা ভূখণ্ড হিসেবে দেখলেও দ্বীপপুঞ্জটি এখন জাপানের শাসনে আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এদিকে জাপানের কোস্ট গার্ড বলছে, তারা জাপানি মাছধরার নৌকার দিকে এগিয়ে যাওয়া দুটি চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজের পথরোধ করে তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, যার সূচনা হয়েছিল গত মাসে তাইওয়ান নিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এক বিতর্কিত মন্তব্যে।
সেসময় পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানে বেইজিং হামলা করলে টোকিও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাকাইচি আগে থেকেই চীন ও দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের ক্রমশ প্রভাব বিস্তারের বিরোধী।
চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে তার দেশের অংশ মনে করে, একে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়তে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি তারা।
পার্লামেন্টে তাকাইচির ওই ইঙ্গিতের পর থেকে বেইজিং ও টোকিও একে অপরের বিরুদ্ধে নানান পদক্ষেপ নিয়েছে, যার অনেকগুলো দুই দেশের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে।
তাইওয়ান সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ থেকে ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
চীনা কোস্ট গার্ডের (সিসিজি) মুখপাত্র লিউ দেজুন বলেছেন, চীনের নৌযানগুলো দিয়াওয়ু দাও-র জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করা একটি জাপানি মাছধরার নৌকার দিকে এগিয়ে যায় এবং তাদেরকে সতর্ক করে।
দ্বীপপুঞ্জটিকে চীনা এলাকা দাবি করে লিউ জাপানকে ‘এই জলসীমায় সব ধরনের হস্তক্ষেপ ও উসকানিমূলক কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের’ আহ্বান জানিয়েছেন, বলেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
জাপান কোস্ট গার্ডের (জেসিজি) বক্তব্য আলাদা। তারা বলছে, মঙ্গলবার ভোরের আগে চীনা নৌযানগুলোকে জাপানি জলসীমায় ঢুকতে দেখে তারা ছুটে যায় এবং চীনের ওই নৌযানগুলোকে এলাকা ছাড়তে বলে।
জেসিজি’র টহল জাহাজ কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই মাছ ধরার নৌযানের নিরাপত্তা দিয়েছিল, যতক্ষণ না চীনের কোস্ট গার্ড ওই অঞ্চল ত্যাগ করে, বলেছে তারা।
জাপান ও চীন ২০০৮ সালে পূর্ব চীন সাগরের সম্পদ ব্যবহারে নীতিগতভাবে একমত হলেও গত দেড় দশকে দুই দেশকে আলাদা করা ওই জলসীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে।
এই উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রে আছে সেনকাকু বা দিয়াওয়ু দ্বীপপুঞ্জ, যা জনমানবহীন হলেও এর ভৌগোলিক ও সামরিক গুরুত্ব অপরিসীম।
চীন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই দ্বীপপুঞ্জের কাছে নিয়মিত নৌযান পাঠাচ্ছে, একে জাপানের সক্ষমতা পরখ করে দেখার চেষ্টা বলেই ধরা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের আগে সিসিজি’র নৌযান সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর সেনকাকু বা দিয়াওয়ু দ্বীপপুঞ্জের জলসীমায় ঢুকেছিল। সেসময় একে ‘নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় চীনা কোস্ট গার্ডের আইনসিদ্ধ টহল অভিযান’ আখ্যা দিয়েছিল তারা।