Published : 29 May 2026, 10:11 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টারে আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন' কোম্পানির তৈরি রকেট পরীক্ষা চালানোর সময় সেটি বিস্ফোরিত হওয়ায় ঘটনায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার চাঁদে ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা।
বৃহস্পতিবার কেপ ক্যানাভেরালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে উৎক্ষেপণ প্যাডেই বিস্ফোরিত হয় ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেট। রকেটটির ইঞ্জিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এই রকেটের মাধ্যমেই নাসার চন্দ্রাভিযানের সরঞ্জাম ও ল্যান্ডার চাঁদে পাঠানোর কথা ছিল। তার আগেই এই দুর্ঘটনা সেই পরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তায় ফেলল।
প্রায় ৯৮ মিটার বা ৩২২ ফুটের এই নিউ গ্লেন রকেটের মাধ্যমে আগামী ৪ জুনেই আমাজনের লিও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের জন্য ৪৮টি স্যাটেলাইট মহাকাশে, মূলত পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানোর কথা ছিল।
রকেট বিস্ফোরণে এর লঞ্চ কমপ্লেক্স-৩৬ (এলসি-৩৬) ভস্মীভূত হয়। বিস্ফোরণে উৎক্ষেপণ মঞ্চ (লঞ্চপ্যাড) ও এর আশেপাশের কাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রকেট উৎক্ষেপণ প্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এটি পুনর্নির্মাণ ও পুনরায় এর সার্টিফিকেশন না হওয়া পর্যন্ত ব্লু অরিজিন তাদের এই ভারি রকেটটি ওড়াতে পারবে না। আর এই পুননির্মান কাজে কয়েকমাস লাগতে পারে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্লু অরিজিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, হটফায়ার টেস্টের সময় একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মীর সবাই নিরাপদ আছেন বলে জানায় তারা।
ওদিকে, ঘটনার পর জেফ বেজোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কর্মীরা নিরাপদ আছেন। তাদের খোঁজও পাওয়া গেছে। দিনটি খুব কঠিন ছিল। তবে যা পুনর্গঠন করা দরকার, আমরা তা করব এবং আবার উড্ডয়নে ফিরব। এই প্রচেষ্টা জরুরি।”
দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য কোনও ঝুঁকি তৈরি না হলেও ইলন মাস্কের স্টারলিংক নেটওয়ার্কের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি ব্রডব্যান্ড স্যাটেলাইট ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়া আমাজনের লিও নেটওয়ার্কের জন্য এই দুর্ঘটনা এক বড় ধাক্কা।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী ঘাঁটি (মুন বেস) নির্মাণের জন্য প্রথম তিন-পর্যায়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরই এই দুর্ঘটনা ঘটল। এই তিন পর্যায় হল:
প্রথম পর্যায়: এই পর্যায়ে চন্দ্রঘাঁটি (মুন বেস-১) প্রকল্পের প্রথম ধাপে ব্লু অরিজিনের রোবোটিক ব্লু মুন মার্ক-১ ‘এনডিওরেন্স’ ল্যান্ডারটি নিউ গ্লেন রকেটের মাধ্যমে এবছর শেষেই চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৮ সালে নভোচারীদের পৌঁছানোর আগে প্রাথমিক অবকাঠামো প্রস্তুত করাই এর লক্ষ্য।
দ্বিতীয় পর্যায়: এই পর্যায়ে ২০২৯ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে স্থায়ী অবকাঠামো যেমন: বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (পাওয়ার গ্রিড), দীর্ঘস্থায়ী বাসস্থান এবং অন্যান্য জরুরি যন্ত্রপাতির সমাবেশ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃতীয় পর্যায়: অবকাঠামো প্রস্তুত হলে নিয়মিত বিরতিতে নভোচারীদের চাঁদে পাঠানো এবং সেখানে একটানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কিন্তু জেফ বেজোসের রকেট ধ্বংসের ঘটনায় চাঁদে ২০২৬ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত প্রথম ল্যান্ডিং মিশনটি এখন গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং কয়েক মাস পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।