Published : 26 Jul 2026, 09:56 PM
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যদের অভিযানে আটক ১০ জনকে একটি বাড়ির প্রধান ফটকে হাত ওপরে তুলে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, “এমনটা করার সুযোগ নেই। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।”
তিনি বলেন, “মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা শুধু তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করবেন। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদের সতর্ক করা হবে।”
শুক্রবার স্থানীয়দের নিয়ে ‘মাদক ও জুয়াবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর শনিবার রাত ১০টা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মুক্তাগাছা পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালান কমিটির সদস্যরা।
অভিযানে ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কমিটির আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম শহিদের পাড়াটঙ্গী এলাকার বাড়ির ফটকে হাত ওপরে তুলে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
রোববার আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাদের সর্বোচ্চ ১০ মাস থেকে সর্বনিম্ন চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের মোট দুই হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- প্রশান্ত চৌহান (২৮), নূর হাবিব (৩০), আসাদুজ্জামান বাবু (২২), শামীমুল ইসলাম শামীম (৩১), মো. সোহাগ (২৫), মো. হাসমত আলী (৪২), রাজীব আলী (২৫), সুজন মিয়া (৩২), তারা মিয়া (৬৭) ও নাজমুল ইসলাম রাজু (৩০)।
কমিটির আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের নিয়ে ‘মাদক ও জুয়াবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’ নামে ৩৩১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কাজ করাই এই কমিটির লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “প্রশাসন দিয়ে কোনোভাবেই একেবারে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাদের ভিতরেও অনেক সমস্যা রয়েছে। তাই আমরা কাজ করছি।”
আটকদের ফটকে বেঁধে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “আটক ব্যক্তিদের প্রথমে আমার বাসায় রাখা হয়েছিল। সকালে আমি বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্থানীয় কিছু মানুষ তাদের ফটকে বেঁধে রাখে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাদের হাত খুলে দিই।”

মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “যাদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তারা মাদকসেবী। তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২টি ইয়াবা ও বিভিন্ন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ দিয়ে কারও বিরুদ্ধে মাদক মামলা করা সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চলছে। স্থানীয় জনগণ ও মাদকবিরোধী কমিটির সহযোগিতায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।