Published : 21 Apr 2026, 05:33 PM
সামরিক বাহিনী সমর্থিত মিয়ানমারের নতুন সরকার চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যেই বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে চায় বলে জানিয়েছেন জান্তাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং।
তবে মঙ্গলবার দুটি শীর্ষ বিদ্রোহী গোষ্ঠী তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সরকারি এক বৈঠকে হ্লাইং বিদ্রোহীদের আলোচনায় আসার ওই প্রস্তাব দেন বলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। বৈঠকে মিয়ানমারের এখনকার প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয় এমন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে শান্তি আলোচনায় বসতে চান তিনি।
“যে গোষ্ঠীগুলো এখনও সংলাপ বা আলোচনায় আসেনি, তাদেরও আমরা ৩১ জুলাইয়ের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাই,” বলেছেন হ্লাইং। তিনি কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট, অল বার্মা স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের মতো বিদ্রোহী অনেক গোষ্ঠীর নামও নেন।
বক্তৃতায় হ্লাইং মূলত নেশনওয়াইড সিজফায়ার এগ্রিমেন্টে (এনসিএ) স্বাক্ষরকারীদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ওই চুক্তিটি হয়েছিল ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের অনেক আগে। ওই অভ্যুত্থানই হ্লাইং-কে ক্ষমতায় বসায় এবং এনসিএ-কে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়।
কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) মুখপাত্র স ত নি সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
“২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর কেএনইউ ইতিমধ্যে এনসিএ থেকে সরে এসেছে। আলোচনায় ফেরা বা এনসিএ-র পথ অনুসরণের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই,” বলেছেন তিনি।
চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (সিএনএফ) মুখপাত্র সালাই হতেত নি বলেছেন, তাদের দল সামরিক বাহিনীর প্রভাবমুক্ত একটি কেন্দ্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়।
“যেহেতু আমরা একটি সামরিক-রাজনৈতিক লড়াইয়ে আছি, তাই যারা সামরিক বাহিনীর চেহারাটা পাল্টে নিজেদের ‘প্রশাসন’ ডাকছে, তাদের কারো সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই আমাদের,” বলেছেন তিনি।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই দেশটি টালমাটাল সময় পার করছে। সু চি’কে পরে এমন সব অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যেগুলোকে তার মিত্ররা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে আসছেন।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারের নতুন সরকার ৮০ বছর বয়সী সু চি’র সাজা ছয়ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে।
দেশটির পার্লামেন্ট চলতি মাসের শুরুর দিতে মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে। যে নির্বাচনে এ পার্লামেন্টের সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন সে ভোটের বৈধতা নিয়ে সমালোচকরা এবং পশ্চিমা সরকারগুলো প্রশ্ন তুলে আসছে।
নতুন এ সামরিক বাহিনী সমর্থিত প্রশাসন হাতে গোনা কয়েকটি দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে, বলছে রয়টার্স।