Published : 02 Apr 2026, 06:07 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলতে মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, জোর করে হরমুজ প্রণালি খোলার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান চালানো বাস্তবসম্মত হবে না।
“অনেকে সামরিক পদক্ষেপের সাহায্যে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার চিন্তাভাবনার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, মাঝে মাঝে যুক্তরাষ্ট্রও একইরকম অবস্থানও নিচ্ছে বলে মনে হয়, যদিও তাদের অবস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে।
“এটা কখনোই আমাদের পছন্দ হতে পারে না, কারণ এটা অবাস্তব। এভাবে হরমুজ খুলতে আজীবন লেগে যাবে, যারা ওই প্রণালিটি পাড়ি দিতে চাইবে তাদেরকে কেবল আইআরজিসি নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকিতেও পড়তে হবে,” দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকালে বৃহস্পতিবার মাক্রোঁ সাংবাদিকদের এসব বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হরমুজ খুলতে ৩৫ দেশের বৈঠক ডেকেছে যুক্তরাজ্য
হরমুজ প্রণালি খোলার পথ বের করার লক্ষ্যে একটি জোট গঠনে বৃহস্পতিবার বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য।
ইরানলাগোয়া সঙ্কীর্ণ জলসীমাটিতে নৌচলাচল নিরাপদ রাখার দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর—ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর লন্ডন এ বৈঠক ডাকে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে স্থানীয় সময় দুপুরে হতে যাওয়া ভার্চুয়াল এ সভায় ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের এ বৈঠকে থাকছে না বলেই জানা গেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযানই প্রণালিটি টপকাতে পারছে না।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে যেত সেটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামও ক্রমশ বাড়ছে, যে কারণে অনেক দেশই হরমুজ খোলাকে তার অগ্রাধিকার তালিকায় নিতে বাধ্য হয়েছে।
যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পর আগের মতো অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিতে ‘সম্ভাব্য কী কী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা’ নেওয়া যায় বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তা যাচাই-বাছাই করা হবে, বুধবার এমনটাই বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
যুদ্ধের শুরুতেই ট্রাম্প হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ইউরোপীয় মিত্রদের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। এখন জ্বালানির বাড়তি দাম দেখে অনেক দেশই কূটনৈতিক পথসহ নানান পথ অবলম্বন করার কথা ভাবছে, বলেছে রয়টার্স।
এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজ খোলার কোনো পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ওই জলপথ থেকে মাইন সরানোর প্রসঙ্গ আসবে, পরের ধাপে আসবে ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা।
স্টারমার বলেছেন, সঙ্কীর্ণ ওই জলসীমাটি খোলা ‘মোটেও সহজ হবে না’, এজন্য নৌযান সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ‘সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি যৌথ ফ্রন্টের’ প্রয়োজন পড়বে।
ট্রাম্প এর আগে বুধবার বলেছিলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে তাদের উচিত ‘দেরিতে হলেও সাহস সঞ্চার করা’ এবং ‘সেটি ছিনিয়ে নেওয়া’।
“নিয়ে নাও, সুরক্ষা দাও, নিজেদের কাজে লাগাও,” বলেছিলেন তিনি।