Published : 06 Mar 2026, 12:25 PM
ইরানে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলায় ১৬৫ শিশু নিহতের ঘটনায় ‘সম্ভবত মার্কিন বাহিনীই দায়ী’ বলে মনে করছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর তদন্তকারীরা।
তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে এ কথাই বলা হয়েছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তদন্ত এখনও শেষ হয়নি এবং স্কুলে হামলার ব্যাপারে তদন্তে আর কিছু এসেছে কিনা তার বিস্তারিত জানা যায়নি।
কীসের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন, হামলায় কী ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা ব্যবহৃত হয়েছে, কে বা কারা দায়ী এবং কেন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্কুলে হামলা চালাতে হল, এসব বিষয়ে রয়টার্স আর তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি।
তদন্ত শেষ না হওয়ায় এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না, সূত্রগুলো বলেছে সংবাদ মাধ্যমটিকে।
দক্ষিণ ইরানের মিনাবের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রে এ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেনিভায় জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেনি।
হামলায় স্কুলটির নিহত শিশু ও কর্মীদের বিদায় জানাতে হওয়া শোকর্যালিতে বিপুল সংখ্যক লোক দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
তারা বলছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা অন্য যে কোনো বেসামরিক স্থাপনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, তারা মিনাবের ওই স্কুলে হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখছেন।
তদন্তে সামনের দিনে নতুন কোনো তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের দায় উড়িয়ে দিতে পারে বলেও জানিয়েছে ওই সূত্রগুলো।
তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগবে এবং আর কী কী তথ্যপ্রমাণের জন্য তদন্তকারীরা অপেক্ষা করছেন তা জানতে পারেনি রয়টার্স।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এর আগে বলেছিলেন, “যুদ্ধ মন্ত্রণালয় ব্যাপারটি খতিয়ে দেখছে, ইরানি শাসকরাই বেসামরিক শাসক ও শিশুদের নিশানা বানায়, যুক্তরাষ্ট্র নয়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগন তাদের কাছে করা প্রশ্ন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠিয়ে দেয়। পরে সেন্টকমের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স বলেন, “তদন্তনাধীন কোনো বিষয়ে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না।”
বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের নিশানা বানায় না, তবুও মিনাবের স্কুলে হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।