Published : 25 Feb 2026, 04:27 PM
পাকিস্তানের লাহোর শহরে চলতি মাসের প্রথমদিকে তিন দিন ধরে চলা বসন্ত উৎসবের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি বুধবার লাহোর হাই কোর্টে (এলএইচসি) বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছে বলে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে। এক আইনজীবীর দায়ের করা এক পিটিশনের শুনানির পর আদালত মন্ত্রণালয়টিকে এ বিষয়ক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল।
এবার ফেব্রুয়ারি ৬ থেকে ৮, তিন দিনব্যাপী বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘ ১৮ বছর ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব নিষিদ্ধ ছিল। চলতি বছর পাঞ্জাব সরকার ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, কিন্তু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
তবে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া সত্ত্বেও এ উৎসবের সঙ্গে সম্পর্কিত শতাধিক দুর্ঘটনার খবর হয়েছে।
প্রকশিত খবর অনুযায়ী, উৎসব চলাকালে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান, দুইজন মারা যান গাছ থেকে পড়ে আর আরও ১২ জন মারা যান ছাদ থেকে পড়ে।
পাকিস্তানে এই ‘বসন্ত’ উৎসব মূলত বসন্ত মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে শত শত বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। এই উৎসবের প্রধান অনুসঙ্গ ঘুড়ি উড়ানো।
কিন্তু ঘুড়ির মাঞ্জা দেওয়া ধারাল ও শক্ত সুতা পথচারী কিংবা মোটরসাইকের আরোহীদের গলায় পেঁচিয়ে অতীতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে ও উৎসব উপলক্ষে আকাশে গুলি ছোড়ার ঘটনায়ও অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে। মূলত এসব কারণেই ২০০৭ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
এবার বসন্ত উৎসব চলাকালে ঘুড়ির সুতায় কতোজন আহত হয়েছে তার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে লাহোর হাই কোর্ট। এবার ঘুড়ির মাঞ্জায় ধাতুর গুড়া, কাঁচের গুড়া ও রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি উৎসব চলার সময় ছাদ থেকে আকাশের দিকে গুলি ও মদ্যপানও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
উৎসব শেষ হওয়ার পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নেওয়াজ শরিফ একটি ‘নিরাপদ বসন্ত’ উৎসবের আয়োজন করতে পারার জন্য প্রদেশটির কর্তৃপক্ষগুলোর প্রশংসা করেছিলেন। এই উৎসব চলাকালে ঘুড়ির সুতায় আহত হয়ে একজনেরও মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছিলেন তিনি।