Published : 30 Apr 2026, 01:33 PM
মিয়ানমারে আটক দেশটির সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সাজা আরেক দফা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার এক আইনজীবী।
রাষ্ট্রীয় এক ক্ষমার অংশ হিসেবে এবারও তার সাজা ছয়ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার এমনটাই বলেছেন তার আইনজীবী দলের এক সদস্য।
এ নিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই দফা সাজা কমল সু চির।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দি নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এ রাজনীতিকের কারাদণ্ডকাল এখন ১৮ বছরের সামান্য বেশি, তার আইনজীবী দলের ওই সদস্য এ কথা বলেছেন। তিনি তার নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হননি, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি উসকে দেওয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার নিয়ম লঙ্ঘনসহ নানান অভিযোগে দীর্ঘদিনের বিচার শেষে ৮০ বছর বয়সী সু চি’কে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মিত্ররা সু চির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে আসছেন। তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই এসব অভিযোগ ও বিচারের নাটক সাজানো হয়েছে বলেও ভাষ্য তাদের।
সু চির সাজা প্রথমে কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়েছিল। মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে গত ১৭ এপ্রিল ওই সাজা আরও ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়, সেবার তার মিত্র ও সহযোগী, সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ছাড়াও পান।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক ঘোষণায় জানায়, সব বন্দির সাজার মেয়াদ কমানো হয়েছে। এরপরই সু চির সাজা আরও কমে ১৮ বছরের সামান্য বেশি হয়েছে বলে তার আইনজীবী দলের ওই সদস্য নিশ্চিত করেন।
বন্দি সু চি এখন কোথায় তা অজানা, বিচারের সময়ই তাকে সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ তাকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে বন্দি করে রেখেছে; এখন পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্য বা আইনজীবী দলকে মুখোমুখি সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি।
এসব বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সামরিক বাহিনী সমর্থিত মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্রকে ফোন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার দিক থেকে সাড়া মেলেনি।
যে অভ্যুত্থানে সু চি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, তার প্রধান মুখ মিন অং হ্লাইং-ই এখন মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট।
সম্প্রতি হওয়া যে নির্বাচনের সূত্রে তিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, ওই নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে তার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানও হ্লাইংয়ের ওপর এ চাপ অব্যাহত রেখেছে। আসিয়ানের বেশ কয়েকটি সম্মেলনে অনাহূত হ্লাইং এখন ফের জোটটিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
দিনকয়েক আগেই তিনি থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, সু চির ‘খেয়াল ভালোভাবেই রাখা হচ্ছে’ এবং তার সরকার ‘ভালো কিছু করার’ কথা বিবেচনা করছে। তবে সেই ‘ভালো কিছু’টা কী সে সম্বন্ধে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।