Published : 14 Mar 2026, 01:28 AM
যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন জ্বালানি অবরোধের মুখে কিউবা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছে।
শুক্রবার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় জানান, “দ্বিপক্ষীয় বিরোধগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে এই সংলাপ শুরু হয়েছে।”
চলতি বছর জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর কিউবায় এই জ্বালানি বিপর্যয় নেমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করার পাশাপাশি দেশটিকে তেল সরবরাহ করা যে কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই তেল অবরোধের কারণে কিউবায় গত তিন মাস কোনও জ্বালানি আমদানি হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। কিউবার রাজধানী হাভানাসহ দেশের বেশিরভাগ অংশে দিনে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিভ্রাট থাকছে।
রেশনের জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে কিউবায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, যার প্রতিবাদে হাভানার বাসিন্দাদের অন্ধকারে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইমেইলে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, “মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলার সমর্থন হারিয়ে কিউবা এখন একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে।
“প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) যেমনটি বলেছেন, তেমনই আমরা কিউবার সঙ্গে কথা বলছি। দেশটি নেতাদের একটি চুক্তি করা উচিত। যেটি তিনি (ট্রাম্প) মনে করেন, খুব সহজেই করা যাবে।”
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল জানান, কিউবার পক্ষে তিনি নিজে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কারা আলোচনায় আছেন বা আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা তিনি জানাননি।
ট্রাম্প জানান, আলোচনায় জড়িত আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ওদিকে মিগুয়েল বলেন, আলোচনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কিউবা আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।
এতদিন কিউবা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারিভাবে কোনও আলোচনা চলার কথা অস্বীকার করে এসেছে। তবে রাউল কাস্ত্রোর নাতি রাউল গুইলারমো রদ্রিগেজের পর্দার আড়ালে সংলাপের যেসব খবর গণমাধ্যমে এসেছে, সেগুলো কিউবা সরাসরি অস্বীকারও করেনি।