Published : 07 Dec 2025, 11:59 PM
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের ছায়ায় দুই বছরের অন্ধকারের পর এই প্রথম যিশুর জন্মস্থল বেথলেহেমে বড়দিনের আগমনে আলোয় ভরে উঠেছে ‘ক্রিসমাস ট্রি’। ক্ষণিকের জন্য ফিরে এসেছে আনন্দ।
রাতের আকাশ আলোকিত করা ঝলমলে ‘ক্রিসমাস ট্রি’ দেখতে আসা ফিলিস্তিনিরা বলছেন, এই আনন্দ উদযাপন দুটি অর্থ বহন করে। তা হল: এই আলো জ্বলার মধ্যে আছে আশা, আর পশ্চিম তীর ক্রমেই মুঠোর মধ্যে নিতে থাকা ইসরায়েলের হাত থেকে মুক্তির আকাঙ্খা।
একইসঙ্গে গাজায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের শোক যেমন মানুষের মধ্যে আছে, তেমনি ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধে বেথলেহেমের অচল অর্থনীতি নিয়েও দুশ্চিন্তা আছে।
বেথলেহেমে এবারের বড়দিন উদযাপন কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমিত থাকছে। ম্যানজার স্কয়ারে ধর্মীয় নেতারা ও স্থানীয় কর্মকর্তারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাধারণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাছ আলোকিত করেন।
স্কয়ারে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে স্তবগান গেয়েছন, কোরাস সংগীত শুনেছেন। আনন্দ আর শোকের মিশ্রণে উদযাপিত এটিই ছিল একমাত্র অনুমোদিত উৎসব আয়োজন।
খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্টের জন্মস্থান বেথলেহেম শহরের অবস্থান ইসরায়েল-অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে। বেথলেহেমের এক গোয়ালঘরে জন্ম নিয়েছিলেন যিশু।
বেথলেহেমে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বড়দিন পালনের ঐতিহ্য থাকলেও গত দু’বছরে এই উৎসব ছিল নিরানন্দ। বেথলেহেম থেকে গাজার দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার।
তারপরও সেখানে যুদ্ধ পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ব্যাথিত করেছে। কারণ, গাজায় এই ফিলিস্তিনিদের অনেকেরই পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব আছে।
গাজায় ইসরায়েলের হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে বেথলেহেমের স্থানীয় নেতারাও এর আগে বড়দিন উদযাপন বাতিল করেছিলেন।
“তবে এবারের উদযাপন আগের যে কোনও সময়ের থেকে আলাদা,” আল জাজিরাকে একথা বলেছেন ইভানজেলিক্যাল লুথেরান ক্রিসমাস চার্চের যাজক রেভারেন্ড মুনথের আইজ্যাক।
তিনি বলেন, “শহর সুন্দর করে সাজানো, গাছ আলোয় ভরা, কিন্তু প্রতিটি ফিলিস্তিনির মনে গভীর শোক।”
“এই উদযাপনের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার বার্তা দিচ্ছে.. তারা এটাই বলতে চাইছে যে আমরা এখনও এখানে আছি, বেঁচে থাকতে আমরা সংকল্পবদ্ধ, বেথলেহেমকে বড়দিনের রাজধানী হিসেবে ধরে রাখছি। ফিলিস্তিনিরা জীবনকে ভালবাসে,” বলেন আইজ্যাক।
বেথলেহেমের মেয়র মাহের এন কানাওয়াতিও একই বার্তার প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, “দীর্ঘ অন্ধকার আর নীরবতার পর পৌরসভা এই শহরে বড়দিনের আলো ফিরিয়ে আনার পথ বেছে নিয়েছে।
“আমরা বেথলেহেমের মানুষের জন্য আশা জাগাতে এবং সেই বার্তা গাজাসহ পুরো বিশ্বে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। বেথলেহেম উন্মুক্ত ও নিরাপদ। বিশ্বের এখন ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর সময়। বেথলেহেম ক্রিসমাস ট্রির আলো জ্বেলেছে। এই আলো আমাদেরকে বলছে আশাই শক্তি।”
“তবে গাজা যুদ্ধের ধ্বংস আর মানুষের দুর্ভোগ আমাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে” বলেও উল্লেখ করেছেন ইভানজেলিক্যাল লুথেরান ক্রিসমাস চার্চের যাজক মুনথের আইজ্যাক।