১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইন্দোনেশিয়ায় ৬৭ হাজার বছর আগের গুহাচিত্রের সন্ধান

বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার’-এ এই চিত্রকর্ম ছাপা হয়েছে। এই চিত্রকর্মগুলো এর আগে বিশ্বের প্রাচীনতম বলে বিবেচিত গুহাচিত্রের তুলনায় অন্তত ১৫ হাজার বছর পুরনো।

ইন্দোনেশিয়ায় ৬৭ হাজার বছর আগের গুহাচিত্রের সন্ধান
ছবি: নেচারডটকম/এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jan 2026, 10:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:47 PM

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের একটি চুনাপাথরের গুহা থেকে অন্তত ৬৭ হাজার ৮০০ বছরের পুরনো কিছু মানব হাতের ছাপ পাওয়া গেছে। 

এই ছাপ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্ট যে, এগুলো কোনও অনিচ্ছাকৃত ছাপ নয়। ভেবেচিন্তেই তা তৈরি করা হয়েছিল। সম্ভবত গুহার দেয়ালে হাত রেখে, সেই হাতের চারপাশে লালচে রঙ করা হয়েছিল। 

এ থেকে বোঝা যায়, এই সৃষ্টির নেপথ্যে সৃজনশীল ভাবনা ছিল। গবেষকরা বলছেন, সম্ভবত এটিই পৃথিবীর প্রাচীনতম গুহাচিত্র। 

এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে মানবজাতির প্রতীকী চিন্তা ও সৃজনশীল সংস্কৃতির সূচনা ইউরোপেই প্রথম নয়। বরং তা আরও অনেক আগেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঘটে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা গুহাচিত্রর নিচে জমে থাকা খনিজ স্তরের ইউরেনিয়ামের মাত্রা বিশ্লেষণ করে এটি কতটা পুরোনো তা নির্ধারণ করেছেন।

বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার’–এ এই চিত্রকর্ম ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই চিত্রকর্ম এর আগে বিশ্বের প্রাচীনতম বলে বিবেচিত গুহাচিত্রের তুলনায় অন্তত ১৫ হাজার বছর পুরনো। 

এর আগের সেই চিত্রটিও ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপেই আবিষ্কৃত হয়েছিল, যেখানে একটি শূকরের সঙ্গে মানবসদৃশ কিছু অবয়ব আঁকা ছিল।

আর নতুন আবিষ্কারটি ফ্রান্সে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন গুহাচিত্রের তুলনায়ও প্রায় ৩০ হাজার বছর আগের বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

গবেষকরা বলছেন, এই শিল্পকর্ম কেবল এর প্রাচীনত্বের কারণেই নয়, বরং এর স্বতন্ত্র শৈলির জন্যও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাতের ছাপে আঙুলের আকৃতি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে মনে হয়, যা অনেকটা প্রাণীর নখের মতো। 

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মানুষের হাতের আকৃতিতে এই পরিবর্তন প্রতীকী চিন্তাভাবনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে কিংবা প্রাচীন সমাজে মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্ক নিয়ে তাদের মনোভাবের প্রতিফলনও হতে পারে।

এর আগে সুলাওয়েসি দ্বীপে আরও গুহাচিত্রের সন্ধান পেয়েছিলেন গবেষকেরা। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার বছরের পুরনো একটি চিত্রকর্মে পাখি, মানব অবয়ব ও অন্যান্য প্রাণীসদৃশ আকৃতির দেখা পাওয়া গিয়েছিল।

এই আবিষ্কার প্রশ্ন তোলে সেই দীর্ঘদিনের ধারণা নিয়ে—যখন বলা হত, ইউরোপে বরফ যুগে ৪০ হাজার বছর আগেই কেবল বিমূর্ত ও প্রতীকী চিন্তার সূচনা হয়েছিল। 

কিন্তু নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মানুষের সৃজনশীলতা ও শিল্পচর্চার বিকাশ হয়ত তারও বহু আগে শুরু হয়েছিল।

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যাডাম ব্রাম বলেন, ১৯৯০-এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাকে শেখানো হয়েছিল যে, মানুষের সৃজনশীলতার উৎপত্তি ইউরোপের একটি দুর্গম অঞ্চলে। 

তবে ইন্দোনেশিয়া থেকে পাওয়া নতুন গুহাচিত্র ইউরোপকেন্দ্রিক সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। তার মতে, আধুনিক মানব আচরণ, বিশেষ করে চিত্রকর্মের মাধ্যমে কিছু ফুটিয়ে তোলা এবং সৃজনশীলতা বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও হয়ত অনেক আগেই বিকশিত হয়েছিল।