Published : 28 May 2026, 04:33 PM
ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী চারটি ইরানি সামরিক ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে আর পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণে বাধা দিতে বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে আঘাত হেনেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, এই হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ ডলার ৮৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের (ইউএস ক্রুড) দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয়েছে ৯২ ডলার ২২ সেন্ট।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল। গত তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশ যখন আলোচনায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে আছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালানোর পরপরই তেহরান এই নৌপথ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়। এ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে এর দাম ছিল ৭০ ডলারের কাছাকাছি।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, এমন আশায় চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বেশ খানিকটা কমে এসেছিল।
গত তিন দিনের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ ইরানে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সেন্টকম জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনের চেষ্টায় থাকা নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম বলেছে, “ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের রক্ষা করতেই ওই হামলাগুলোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।”
এদিকে, বৃহস্পতিবার ইরান এই নতুন হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে আর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, তারা ‘যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক আচরণের জবাব দেবে।’
এর আগে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ‘শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের হুমকি’ প্রতিহত করছে। তবে এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেয়নি।