Published : 02 Feb 2026, 12:10 PM
কিউবার রাজধানী হাভানার বাইরে স্থানীয় বাসিন্দা ও গির্জার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় দেশটিতে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে ক্ষুব্ধ একদল জনতা চিৎকার করে ‘খুনি’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদী’ বলার পর ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় দেশটির বিরুদ্ধে তাদের কূটনীতিকের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিউবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভয় দেখানোর ব্যর্থ কৌশল’ প্রয়োগের এ অভিযোগ আনে।
মার্কিন শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মাইক হ্যামারের ‘কূটনৈতিক কাজে হস্তক্ষেপে কাউকে যেন না পাঠানো হয়’ হাভানার কাছে তারা সে দাবিও তুলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য ‘অস্বাভাবিক ও অতি বিপজ্জনক’ হুমকি ঘোষণা করার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। কোনো দেশ কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপটিতে তেল পাঠালে তাদের পণ্যে শুল্ক আরোপেরও হুমকি দিয়ে রেখেছেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট।
রোববার ট্রাম্প কিউবাকে ‘পতনের পথে থাকা রাষ্ট্র’ আখ্যা দিলেও বলেছেন, “আমার মনে হয় আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছি।”
দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হ্যামার কিউবায় যান ২০২৪ সালের শেষ দিকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিক হিসেবে দ্বীপটির বিভিন্ন অংশে গিয়ে তিনি অনেকবারই রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণকারী, ক্যাথলিক চার্চের প্রতিনিধিসহ অনেকের সঙ্গে দেখাও করেছেন। কিউবার সরকার তার বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।
শনিবার এ কূটনীতিক এক ভিডিও পোস্টে অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় গির্জার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর একদল ‘কমিউনিস্ট’ তাকে হেনস্তা করেছে।
“যখন আমি গির্জার এলাকা ছাড়ছি, অল্প কজন কমিউনিস্ট, যারা বিপ্লব যেভাবে যাচ্ছে তাতে নিশ্চিতভাবেই হতাশ, আমাকে লক্ষ্য করে অশ্লীল চেঁচামেচি করেছে,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিওতে বলেছেন তিনি।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত আরও ভিডিও আসে। যেগুলোতে দেখা যায়, রাতের লোডশেডিংয়ের মধ্যে দুই জায়গায় ছোট ছোট একাধিক গোষ্ঠী চিৎকার করে হ্যামারকে ‘খুনি’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদী’ বলে তিরস্কার করেছে।
ভিডিওগুলোতে থাকা লোকজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি রয়টার্স। কিউবার সরকারও তাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত বছর কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হ্যামারের আচরণকে ‘হস্তক্ষেপমূলক’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন এ কূটনীতিক কিউবানদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা ও অপরাধে উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ এনেছিল।
মার্কিন দূতাবাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল, হ্যামার কেবল তার কাজটাই করছেন।
ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে ফিদেল কাস্ত্রোর ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।
তবে এখন কিউবায় তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট চলাকালে ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে চাপ বাড়িয়েছে তাতে দুই দেশের বিরোধ তুঙ্গে পৌঁছেছে।