Published : 09 Jan 2026, 09:48 AM
ইরানজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারীদের বড়সড় মিছিল হয়েছে বলে অনলাইনে আসা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে।
দেশটিতে ক্ষমতাসীন মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এমন শক্তি প্রদর্শন গত কয়েক বছর দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার তেহরান ও মাশহাদে হওয়া বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নিরাপত্তা বাহিনী বাধাও দেয়নি। ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে এসব মিছিলের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে বিবিসি।
পরে দেশটির ওপর নজর রাখা একটি গোষ্ঠী ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের খবর দিয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারীদেরকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনিকে উৎখাত করে রেজা পাহলভিকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এর আগে ইরানের প্রয়াত সাবেক শাহের ছেলে পাহলভি সম্প্রতি তার সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দেশটিতে মুদ্রার ব্যাপক দরপতনের ফলে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতা এরই মধ্যে ১২তম দিন অতিক্রম করেছে; শতাধিক শহর এবং ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব এলাকাতেই ছোট-বড় বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক মানবাধিকার গোষ্ঠী।
অস্থিরতার মধ্যে ৫ শিশুসহ অন্তত ৩৪ বিক্ষোভকারী ও ৮ নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং ২ হাজার ২৭০ বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)।
তবে নরওয়েভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৪৫ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৮টি শিশুও রয়েছে।
বিবিসি এখন পর্যন্ত ২২ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হতে পেরেছে, তারা তাদের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ ৬ নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানের উত্তরপূর্বের মাশহাদের একটি প্রধান সড়ক ধরে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে।
ভিডিওতে ‘শাহ জিন্দাবাদ’ ও ‘এটাই শেষ লড়াই, পাহলভি ফিরবেন’ স্লোগানও শোনা যায়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দলকে একটি ওভারপাসের ওপর উঠে নজরদারি ক্যামেরা বলে মনে হওয়া একটি কিছু সরাতেও দেখা যায়।
তেহরানের পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান সড়কজুড়ে বিশাল বিক্ষোভের আরেকটি ভিডিও অনলাইনে দেখা যাচ্ছে। সেখানেও ‘এটাই শেষ লড়াই, পাহলভি ফিরবেন’ এমন স্লোগান শোনা যাচ্ছে। উত্তরের অন্যত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিক্ষোভকারীদের মুখে ‘লজ্জাজনক’, ‘ভয় পেও না, আমরা সবাই একসঙ্গে আছি’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
অন্য ভিডিওতে মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইশফাহানে বিক্ষোভকারীদের ‘একনায়কের মৃত্যু’ স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর বাবুলে স্লোগান হয়েছে ‘শাহ দীর্ঘজীবী হন’ এবং উত্তর-পশ্চিমের শহর তাবরিজে হয়েছে ‘ভয় পেও না, আমরা সবাই একসঙ্গে আছি’।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দেজফুল থেকে বিবিসিকে পাঠানো এক ভিডিওতে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে এবং শহরটির কেন্দ্রস্থলের একটি চত্বর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলি চালাতে দেখা গেছে।
সন্ধ্যার ওই বিক্ষোভের কিছুক্ষণ আগেই রেজা পাহলভি ইরানিদের প্রতি ‘ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে দাবি জানানোর’ আহ্বান জানিয়েছিলেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবে তার বাবাকে উৎখাত করা হয়েছিল। রেজা পাহলভি এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
পরে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “লাখ লাখ ইরানি আজ রাতে তাদের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে।” তিনি বিক্ষোভকারীদেরকে ‘সাহসী সহযোদ্ধা’ বলেও আখ্যা দেন।
পাহলভি ইরানি শাসকদের ‘চেপে ধরায়’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেন এবং ইউরোপীয় নেতাদেরও একই কাজ করার আহ্বান জানান।
পাহলভি তার সমর্থকদের শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ফের বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, আয়োজকদের আকাঙ্ক্ষার তুলনায় বিক্ষোভ বেশি বড় হয়নি। নীরব, নিস্তব্ধ সড়ক দেখিয়ে কোনো কোনো শহরে তারা বিক্ষোভ হয়নি বলেও দাবি করেছে।
এদিকে ইন্টারনেট ওয়াচডগ নেটব্লকস বলেছে, ইরানজুড়ে যে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে তা তাদের কাছে থাকা তথ্যউপাত্তে বোঝা যাচ্ছে।