Published : 21 Mar 2026, 05:53 PM
প্রায় তিন সপ্তাহ পর ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যেসব লক্ষ্য নিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল সেগুলোও পূরণ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অসাধারণ সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। আমরা আমাদের লক্ষ্যপূরণের খুব কাছে পৌঁছে গেছি।
ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে আরও ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে শুক্রবার খবর পাওয়া গেছে।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরেদপ্তর পেন্টাগনও যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে আরও ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ চেয়েছে বলেও খবর বেরিয়েছে। তার মধ্যেই ট্রাম্প যুদ্ধ গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন।
ট্রাম্পের এই মিশ্র বার্তার পরপরই তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন শেয়ার বাজারে ধস নামে। পরিস্থিতি সামলাতে তার প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক পোস্টে জানান, প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন এই মিশন শেষ করতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন।
তিনি লিখেন, “শনিবার এই যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পূর্ণ হচ্ছে এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ কাজ করছে। দিনের পর দিন ইরানি শাসনব্যবস্থা পঙ্গু হয়ে পড়ছে।”
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ শুরু থেকেই কোনও স্পষ্ট ধারণা দেয়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪-৬ সপ্তাহের এই সময়সীমাটি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা নতুন একটি সময়সূচি।
ট্রাম্প যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের দাবি করলেও তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েই চলেছেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ২,৫০০ মেরিন সেনাবাহী উভচর যান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরা অঞ্চলটিতে আগে থেকে থাকা ৫০,০০০ মার্কিন সেনার সঙ্গে যোগ দেবে। যদিও ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন, তবে সব পথই খোলা রেখেছেন।