Published : 03 May 2026, 10:18 PM
প্রায় দু’বছর আগে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এক সমন্বিত হামলায় লেবাননজুড়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার পেজার (যোগাযোগযন্ত্র) বিস্ফোরণ ঘটে। বিফোরণে মারা গিয়েছিল অন্তত ৩২ জন। যার মধ্যে ছিল শিশুও। আরও হাজার হাজার মানুষ হয়েছিল গুরুতর জখম। বিশ্ব এমন হামলা আগে কখনও দেখেনি।
আর এখন হিজবুল্লাহই খোদ খুঁজে পেয়েছে এক নতুন অস্ত্র, যা নীরবে ইসরায়েলিদের প্রাণ সংহার করছে।
হিজবুল্লাহর এই অস্ত্রের নাম 'ফাইবার কোয়াডকপ্টার ড্রোন'। মাত্র কয়েক কিলোগ্রাম ওজনের এই অস্ত্র নিখুঁত লক্ষ্যভেদী। এর আকৃতি নয়, বরং এ অস্ত্র কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে সেটিই বেশি বিপজ্জনক।
এই ড্রোন নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়্যারলেস সিগন্যালের পরিবর্তে অত্যন্ত পাতলা ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। এই ক্যাবল ড্রোন ও অপারেটরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে।
ফলে জ্যামিং প্রযুক্তি দিয়ে এগুলোকে অকেজো করা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত করা প্রায় অসম্ভব। যেহেতু এতে কোনও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার হয় না, তাই শত্রুপক্ষ ইলেকট্রনিক জ্যামার ব্যবহার করেও একে থামাতে পারে না।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি সিএনএন-কে বলেন, “এগুলো সিগন্যাল জ্যামিংয়ের শিকার হয় না। এর কোনও ইলেকট্রনিক তরঙ্গ না থাকায়, এটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছে, তাও খুঁজে বের করা অসম্ভব।”
গত রোববার লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এই ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। অথচ ইসরায়েলি সেনারা টেরই পায়নি যে এমন কিছু ধেয়ে আসছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ওই হামলায় ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইদান ফুকস নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়। এরপর আহতদের উদ্ধারে আসা একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করেও ড্রোন পাঠায় হিজবুল্লাহ।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক সূত্র মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-কে জানায়, ফাইবার অপটিক এতটাই সরু ও হালকা যে, এটি খালি চোখে প্রায় দেখা যায় না। এই তারটি ১৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি লম্বা হতে পারে। ফলে চালক নিরাপদ দূরত্বে বসে ড্রোনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুর স্বচ্ছ ছবি দেখতে পায়।
ড্রোন হামলা ঠেকাতে আইডিএফ সাধারণত নিজেদের প্রযুক্তিগত সুবিধার ওপর নির্ভর করে। তারা ড্রোনের সিগন্যাল বা ফ্রিকোয়েন্সি জ্যাম করে দেয়। কিন্তু ফাইবার অপ্টিক ড্রোনে কোনো সিগন্যাল না থাকায় আইডিএফ ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে এটি থামাতে পারে না। এমনকি এটি যে ধেয়ে আসছে তা শনাক্ত করাও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, “জালের মতো কোনও ভৌত প্রতিবন্ধকতা ছাড়া এটি ঠেকানোর জন্য আর কিছু করার নেই।”
যুদ্ধক্ষেত্রে ফাইবার অপ্টিক ড্রোন প্রথম ব্যবহার হতে দেখা যায় ইউক্রেইনে। সেখানে রুশ বাহিনী এগুলো ব্যবহার করে সফল হয়েছিল। তারা এই ড্রোনের তার একটি বেস ইউনিটের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে পরে সেই বেস ইউনিট জুড়ে দিত চালকের সঙ্গে। এই সংযোগের কারণে চালক ড্রোন থেকে অনেক দূরে নিরাপদে থাকতে পারতেন।
লেবাননের হিজবুল্লাহর ড্রোন চালকেরা দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে থাকা ইসরায়েলি সেনাদের হামলার নিশানা করছে।
সূত্র: এনডিটিভি