Published : 07 Jul 2026, 06:24 PM
বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে লোকজনকে ধরে এনে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ‘পুশব্যাকের’ তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (আইইইউডিএফ) প্রধান বদরুদ্দিন আজমল।
এই চর্চা ‘বেআইনি’ এবং ‘ভারতের সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থি’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার পুশব্যাক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আজমল বলেন, “পুশব্যাক সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। এটি ভুল এবং এমনটা হওয়া উচিত নয়। এটি একটি অত্যাচার।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা এবং নির্বাসনের ক্ষেত্রে সব পদক্ষেপ অবশ্যই আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের নির্দেশনায় পরিচালিত হতে হবে।
“এ যুগে বিশ্ব কিছু নিয়ম ও সংবিধানের ওপর চলে। ভারতের সংবিধানের কথা যদি বলি, যারা এই কাজগুলো (পুশব্যাক) করছে, তারা আসলে সংবিধানকে সম্মান করে না।”
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের এই প্রভাবশালী মুসলিম নেতা লোকসভার ধুবড়ী আসনের সদস্য। তিনি আসাম রাজ্যের জমিয়ত উলামায়ে হিন্দেরও সভাপতি।
২০১৫-১৬ সালে জর্ডানের রয়্যাল ইসলামিক স্ট্রাটিজিক স্টাডিজ সেন্টারের প্রকাশিত বিশ্বের ৫০০ প্রভাবশালী মুসলমানের তালিকাতেও ছিলেন আজমল।
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগে সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়। সে সময় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে বহু মানুষকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া শুরু হয়।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় বিজয়ের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে আবার ‘পুশব্যাক’ চেষ্টা বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে রাজ্যের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ পুশব্যাক করার হুমকি দিয়েছেন। সন্দেহভাজনদের আটক রাখতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টারও করেছে রাজ্য সরকার।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও গত মে মাসে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ পুশ ব্যাক নিয়ে বিরূপ ও আগ্রাসী মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে সে সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন বাধেকে তলব করেছিল বাংলাদেশ সরকার।