Published : 23 Jul 2025, 01:43 PM
ফ্লোরিডায় কর্মকর্তাদের কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে গাড়ি থেকে টেনে বের করে ঘুষি মারার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছে জ্যাকসনভিলের শেরিফ বিভাগ।
রয়টার্স লিখেছে, জ্যাকসনভিল শহরের উইলিয়াম ম্যাকনিল জুনিয়র নামের (২২) ওই ব্যক্তি ফেব্রুয়ারিতে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় পুলিশি আচরণের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকা ম্যাকনিল বারবার জানতে চাইছেন, কেন তাকে থামানো হয়েছে এবং তিনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চান।
এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ির চালকের আসনের পাশের কাচ ভেঙে তাকে বের হতে বলেন এবং তার মুখে ঘুষি মারেন। আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে ঘুষি মারেন ও মাটিতে ফেলে দেন, তখন আরও কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে ঘিরে ধরেন; জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে, ম্যাকনেইল ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার কর্মীরা এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার গ্রুপ ঘটনাটিকে পুলিশি নির্যাতনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
“এটা কখনোই কাম্য নয়,” এক্সে লিখেছে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার গ্রুপ। “কিন্তু পুলিশ কখনও কৃষ্ণাঙ্গদের মানুষ হিসেবে দেখেনি,” বলে দাবি করেন তারা।
তবে জ্যাকসনভিলের শেরিফ টি কে ওয়াটার্স মানুষকে তাড়াহুড়ো করে বিচার না করার আহ্বান জানান। তার দাবি, পুলিশের কর্মকর্তারা ম্যাকনিলকে একাধিকবার গাড়ি থেকে নামতে বলেছিলেন।
শেরিফ ওয়াটার্স আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং রাজ্যের অ্যাটর্নি দপ্তর সিদ্ধান্তে এসেছে যে এই ঘটনায় কোনও কর্মকর্তা ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন করেননি।
তবে গাড়ির কাচ ভাঙা ও ঘুষি মারা ওই পুলিশ সদস্য ডি. বাওয়ার্সকে চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ঘটনার পরবর্তীতে ম্যাকনেইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, সঙ্গে গাঁজা রাখার অভিযোগ, বাতিল লাইসেন্সে গাড়ি চালানো, সিটবেল্ট না পরা এবং খারাপ আবহাওয়ায় হেডলাইট না জ্বালানোসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।
এবিসি নিউজ জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাকনিল দুই দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।
এই ঘটনার পুলিশি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ম্যাকনেইলের গাড়িতে ছুরি ছিল এবং পুলিশের সঙ্গে বিবাদের মূহুর্তে তিনি ওই ছুরিটি তুলে নেওয়ার জন্য হাতড়াতে থাকেন।
যদিও ম্যাকনেইলের আইনজীবী বেন ক্রাম্প এবং হ্যারি ড্যানিয়েলস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাদের মক্কেল একদমই ‘আক্রমণাত্মক’ ছিলেন না।