Published : 09 Sep 2025, 07:17 PM
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগের পরও শান্ত হচ্ছে না নেপালের পরিস্থিতি। রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে পার্লামেন্টের ভেতরে ঢুকে পড়েছে শত শত বিক্ষোভকারী।
পার্লামেন্টের মূল ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তারা। গোটা পার্লামেন্ট ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।
অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বহু মানুষ পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করেছে। ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
নেপালের গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। বের হয় মোটর শোভাযাত্রা। অনেকে রং ছিটিয়ে আনন্দ করেন।

পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে মটরবাইক চক্কর দিতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বাগান থেকে তুলে নেওয়া গাছ বহন করছিল এবং ভবনের ভেতরে থাকা চিত্রকর্ম তুলে নিয়ে যাচ্ছিল।
পার্লামেন্ট ভবনের প্রবেশপথের চারপাশে বিক্ষোভকারীদেরকে নাচতে এবং স্লোগান দিতেও দেখা গেছে। ভবনের ভেতরে ঢুকে আছে অনেকেই। ভবনের সব জানালাই ভেঙে ফেলেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
গ্রাফিতি এবং সরকারবিরোধী বক্তব্য স্প্রে করে লেখা হয়েছে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরের দেয়ালে। পার্লামেন্টে ভবনের বাইরে বিক্ষোভে জড়ো হওয়াদের একজন বলেন, নেপালে বহু দিন থেকেই পরিবর্তন দরকার ছিল।
“দুর্নীতি বহু ধরেই একটি বিষয় হয়ে ছিল। ক্ষমতায় পরিবর্তনের জন্য চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে এসেছিল। সেটি এখন ঘটেছে। আমরা এর জন্য লড়তে পেরে এবং এটি ঘটতে দেখে খুবই খুশি।”
অশান্ত নেপালে কেবল পার্লামেন্ট ভবনই ধ্বংস হয়নি, উত্তেজিত জনতার হাতে মার খেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং তার স্ত্রী আরজু রানা দেউবাও।
আরজু বর্তমানে নেপাল সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্বেও আছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দু’জনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে।
পার্লামেন্ট ভবন প্রাঙ্গণে প্রচুর মানুষের ভিড়ের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায় তাদেরকে। দেউবার পোশাকে দেখা গেছে রক্তের ছোপ। তাদের ধরাধরি করে নিয়ে যান কয়েকজন ব্যক্তি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, জনতার হাতে মার খেয়েছেন দম্পতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার থেকেই বিক্ষোভ শুরু করে নেপালের তরুণেরা। বিক্ষোভে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। শেষে ছাত্র-যুবাদের আন্দোলনের মুখে সোমবার রাতেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেপাল সরকার।
কিন্তু তারপরেও আন্দোলন থামেনি। মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এর মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ওলি। কিন্তু তারপরেও বিক্ষোভ থামেনি। মঙ্গলবার সকালে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়। আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিপিএন নেতা প্রচণ্ডের বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে জনতা।
এছাড়া, পদত্যাগ করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের বাসভবনেও আগুন দেওয়া হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয় নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতেও।
নেপালি কংগ্রেসের সদর দফতরেও। তাছাড়া, ইউএমএল নেতা মহেশ বাসনেত, নেপালি কংগ্রেসের নেতা গগন থাপার বাড়িতেও আগুন ধরানো হয়। নেপালের পার্লামেন্ট ভবন এবং সুপ্রিম কোর্টেও চলে তাণ্ডব।