Published : 04 Jun 2026, 09:09 PM
ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার শর্তে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে।
দেশ দুটির মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কিছু ‘পাইলট’ নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরিতে একমত হয়েছে। এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং সেখানে হিজবুল্লাহর মতো কোনও গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
দুই পক্ষের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলা চলার মধ্যেও এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এসেছে। বুধবার দিনের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক ম্যানুয়েল রাপালো ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো খবরে বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি একেবারে নতুন কোনও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নয়। মে মাসে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল আদতে তার সম্মানেই এটি করা হবে। আগে থেকে বহাল যুদ্ধবিরতিটাই ৪৫ দিন বাড়ানো হবে।”
২২ জুন বা তার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি লেবানন সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের আলোচনা আলাদা রাখতে চান। কিন্তু ইরান এই দুই সংঘাতই পরস্পর যুক্ত মনে করে। এমনকি বৈরুতে হামলা হলে পুরোদস্তুর হামলা শুরুর হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরান।
বুধবার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, লেবানন থেকে ইসরায়েলের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া শত্রুপক্ষের ড্রোন ও রকেট তারা ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলে অবস্থান করা সেনাদের অবস্থানে রকেট হামলা চালিয়েছে।
লেবাননে সংঘাত থামাতে গত ১৭ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিজেদের হামলাকে ন্যায্য বলে দাবি করছে।
বুধবার লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। কয়েকটি গ্রামে হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টায়ার শহরের কাছে আল-হাওশ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় চার সিরীয় এবং দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর মুখপাত্র ওই এলাকায় এ ধরনের কোনো হামলার খবর জানা থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।