Published : 13 Sep 2025, 08:58 PM
রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের কামচাটকা উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলে শনিবার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূমি থেকে প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে।
শুরুতে সুনামির ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার পরে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস অবশ্য ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ১ এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, কামচাটকা উপদ্বীপের দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থিত জাপানে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
এর আগে ৩০ জুলাই কামচাটকা উপকূলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্পের পর জাপানসহ প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলজুড়ে সুনামি দেখা দেয়। এই ভূমিকম্পটি রেকর্ডকৃত ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্রতম দশটি ভূমিকম্পের মধ্যে একটি ছিল। এটি ২০১০ সালে চিলির বিওবিওতে হওয়া ভূমিকম্প (৮ দশমিক ৮ মাত্রার) এবং ১৯০৬ সালে একুয়েডরের এস্মেরালদাসে হওয়া ভূমিকম্পের (একই মাত্রার) পাশাপাশি রেকর্ডকৃত ইতিহাসের ষষ্ঠ তীব্রতম ভূমিকম্প ছিল।
ঘটনা হল, পঞ্চম তীব্রতম ভূমিকম্পটিও হয়েছিল রাশিয়ার এই কামচাটকা উপদ্বীপেই। উপদ্বীপের ক্রাই এলাকায়। ১৯৫২ সালে হওয়া এই ভূমিকম্পটি ছিল ‘বিশ্বের প্রথম রেকর্ডকৃত ৯ মাত্রার ভূমিকম্প’।
এই ভূমিকম্পের ধাক্কায় সৃষ্ট বিশাল সুনামি প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপে আঘাত হেনেছিল আর তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
কামচাটকা এবং রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরের ভূমিকম্প-প্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
আরও পড়ুন: