১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৩ জনের প্রাণহানি

নিহতদের দুইজন সিঙ্গাপুরের নাগরিক এবং আরেকজন কাছের একটি শহরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা।

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৩ জনের প্রাণহানি
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 May 2026, 10:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:34 PM

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতে দুই সিঙ্গাপুরি নাগরিকসহ অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উত্তর মালুকু দ্বীপের এই আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও পাথরের কুণ্ডলী আকাশের ১০ কিলোমিটার উপর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০ জন সিঙ্গাপুরি ও ইন্দোনেশীয় পর্বতারোহীদের একটি দল পর্বতটিতে চড়তে গিয়েছিলেন। অগ্ন্যুৎপাতের পর উদ্ধারকারীরা ওই দলের বাকি সদস্যদের জীবিত উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।

ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুইজন সিঙ্গাপুরের নাগরিক। তারা দুইজনই পুরুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৩০ ও ২৭ বছর। আর নিহত আরেকজন কাছের তেরনাতে শহরের বাসিন্দা। তিনি নারী। এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।

উত্তর হালমাহেরা পুলিশ প্রধান এরলিচসন পাসারিবু জানিয়েছেন, অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা ও দুর্গম পাহাড়ি ঢালের কারণে মৃতদেহগুলো এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেগুলো পর্বতেই রয়ে গেছে।

রাত হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তবে শনিবার তা পুনরায় শুরু করার কথা রয়েছে।

উদ্ধার কাজে সহায়তাকারী স্থানীয় বাসিন্দা আলদি সালাবিয়া জানান, পাহাড়ের নিচের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এখনও গহ্বর দিয়ে ক্রমাগত ছাই ও পাথর বের হতে দেখা যাচ্ছে।

মাউন্ট ডুকোনো ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। গত বছরের মার্চ থেকে এতে ২০০ বারেরও বেশি বার অগ্নুৎপাত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই প্রধান গহ্বরের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পাহাড়ের প্রবেশপথে ব্যানার টাঙিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অনেক পর্বতারোহী তা উপেক্ষা করেন।

ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা ‘বারনাসাস’ জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে পর্যটন অপারেটর বা অন্যান্যদের গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’দের নাটকীয় ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্নেয়গিরির ঝুঁকি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে।

ডক্টর দানিয়ানো জানান, মানুষ কেবল তাদের ভিডিও দেখে যারা সফলভাবে ফিরে আসে, কিন্তু অদৃশ্য ঝুঁকিগুলো যে কোনও সময় প্রাণঘাতী হতে পারে, সেটি অনেকেই বুঝতে পারেন না।

বর্তমানে আগ্নেয়গিরিটিকে দ্বিতীয় পর্যায়ের (লেভেল-২) সতর্কতায় রাখা হয়েছে, যার অর্থ সেখানে অগ্নুৎপাতের উচ্চ আশঙ্কা ও বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন।