Published : 01 Jun 2026, 08:10 PM
বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল শোকে। বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তরুণ পাইলটের।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যের ডনসভিলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত পাইলট ২৬ বছর বয়সী ডেভ ফিজি। জখম হয়েছেন তার স্ত্রী জেসনিও। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেভ ফিজি ছিলেন ডেলটা এয়ারলাইনসের পাইলট। তার আদি বাড়ি ভারতের কেরালা রাজ্যে। জর্জিয়ার ডসনভিল এলাকায় গত শুক্রবার বিয়ে করেন ডেভ ও জেসনি। এরপর মধুচন্দ্রিমায় রওনা দিয়েছিলেন নবদম্পতি।
সেই সময় বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই ভেঙে পড়ে তাদেরকে বহনকারী রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টার।
আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-এর খবরে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি যিনি চালাচ্ছিলেন, সেই পাইলটও দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এখনও তার নাম প্রকাশ করেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডেভ ফিজির স্ত্রী জেসনি পেশায় একজন নার্স। দুর্ঘটনায় জখম হয়ে তিনি বর্তমানে মেট্রো আটলান্টার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডেভের বাবা জর্জ ফিজি আটলান্টা নিউজ ফার্স্টকে বলেন, “আমার ছেলে খুব খুশি ছিল।”
এক দশক আগে নিউ টেস্টামেন্ট চার্চে তরুণী জেসনির সঙ্গে ডেভের পরিচয় হয়েছিল। শুক্রবার ডসনভিলের ‘দ্য রিভিয়ার’ -এ তাদের বিয়েতে প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের অনুষ্ঠান থেকেই রবিনসন আর ৬৬ হেলিকপ্টারে চেপে রওনা দেন নবদম্পতি। কথা ছিল ওই হেলিকপ্টার তাদের ডিক্যাল্ব-পিচট্রি বিমানবন্দর পর্যন্ত ছেড়ে দেবে।
কিন্তু তার আগেই ভেঙে পড়ে হেলিকপ্টার। রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডসনভিল শহরের অদূরে ডসন কাউন্টির মাউন্ট ভার্নন ড্রাইভের কাছের জঙ্গলে আছড়ে পড়ে সেটি।
শোকে মুহ্যমান নববধূ:
জঙ্গলের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থল খুঁজে বের করতে বেশ কিছুটা সময় লেগে গিয়েছিল। উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগে ভেঙে পড়া হেলিকপ্টারের ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রায় ছ’ঘণ্টা আটকে ছিলেন জেসনি।
পরে উদ্ধারকারীরা তাকে সেখান থেকে বের করে এবং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
ডেভের বাবা জর্জ ফিজি জানান, তিনি (জেসনি) বলেছেন, যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি দেখেন, ডেভ তার বুকের ওপর শুয়ে আছে। জেসনি ডেভের শরীরে রক্ত দেখতে পান। ততক্ষণে তার দেহ পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। জেসনি একজন নার্স হওয়ায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ডেভ আর বেঁচে নেই।
জেসনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানান ফিজি।
উড্ডয়ন নিয়ে ডেভের উদ্বেগ:
জর্জ ফিজি আরও জানান, হেলিকপ্টার ওড়ার আগে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ডেভ।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে একজন পাইলট ছিল। সে হেলিকপ্টারের পাইলটকে বলেছিল, এখন তো দৃশ্যমানতা কম। এত কম দৃশ্যমানতায় আমরা কখনও বিমান উড়াই না।”
কিন্তু রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারের পাইলট সে সময়ে ডেভকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, “হেলিকপ্টার বেশি উচ্চতায় উড়বে। ফলে সমস্যা হবে না।”
তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)।