Published : 29 Nov 2025, 06:49 PM
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত বেশ কয়েকটি এলাকা সপ্তাহজুড়ে চলা প্রবল বৃষ্টিতে ডুবে গেছে। দ্বীপটিতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে আর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিপর্যয়কর বন্যায় ডুবে যাওয়া বেশ কয়েকটি এলাকায় পৌঁছতে উদ্ধারকারীরা লড়াই করে চলছেন। পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলায় এখনও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এসব এলাকায় ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে বিএনপিবি জানিয়েছে।
সংস্থাটির প্রধান সুহরিয়ানতো বলেছেন, “মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এখনো অনেক মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি, অনেকের কাছে পৌঁছানোও যায়নি।”
পশ্চিম সুমাত্রার আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইলহাম ওয়াহাব বলেছেন, “পশ্চিম সুমাত্রাজুড়ে মোট ৭৫২১৯ জন বাস্তুচ্যুত এবং ১০৬৮০৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”

শুক্রবার রাতে তিনি অঞ্চলটিতে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ৯০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে উত্তর সুমাত্রা থেকে আরও ১১৬ জনের নিশ্চিত মৃত্যুর খবর আসে। আর আচেহ প্রদেশে আরও অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়।
কয়েকদিন ধরে চলা টানা প্রবল বৃষ্টিতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে এই তিন দেশে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ ও মালয় উপদ্বীপের মধ্যবর্তী মালাক্কা প্রণালীতে একটি বিরল ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলজুড়ে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ১৬২-তে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ পেরিয়ে গেছে। বন্যায় মালয়েশিয়ায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসলেও ইন্দোনেশিয়ায় বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ভারি বৃষ্টিতে নদীগুলোর পানি পাড় উপচে পড়ে। অতিরিক্ত পানি পাহাড়ের ঢালের গ্রামগুলো ডুবিয়ে দেয় আর স্রোতের সঙ্গে বহু মানুষ ভেসে যায়। হাজার হাজার ভবন, বাড়ি পানিতে ডুবে যায়।
বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেতু ভেঙে পড়ে। ফলে ওইসব এলাকাগুলো সড়কপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী ও ত্রাণবাহী দলগুলো এসব এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। বহু এলাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে আছে। দুর্গত এলাকায় বিমানযোগে ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: