Published : 20 Dec 2025, 07:58 PM
ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ফের আলোচনার জন্য শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়া ও ইউক্রেইন, দুই পক্ষকেই একটি সমঝোতায় আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহের প্রথমদিকে বার্লিনে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া আলোচনার পর ফ্লোরিডার বৈঠকটি হচ্ছে। বার্লিনের ওই আলোচনায় কিইভের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও মস্কো তা মেনে নেবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তারপরও ফ্লোরিডার বৈঠক ঘিরে কিছু আশা সঞ্চারিত হয়েছে। সবকিছু আশানুরূপ হলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া উইক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে একটি সমাধান আসতে পারে।
ফ্লোরিডার বৈঠকে রুশ প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় থাকছেন স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও আলোচনায় যোগ দিতে পারেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগে ফ্লোরিডার মিয়ামির কাছে উইটকফের একটি গলফ ক্লাবে দুপক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল।
তবে রয়টার্সকে রাশিয়ার একটি সূত্র জানিয়েছে, দিমিত্রিয়েভ ও ইউক্রেইনীয় আলোচকদের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পুতিনের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বলছে, ইউক্রেইনের পুরো ভূখণ্ড দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি প্রেসিডেন্ট পুতিন। এ তথ্য কিছু মার্কিন কর্মকর্তার শান্তি আলোচনার আশাবাদী বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বুধবার মস্কোয় বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে রাশিয়ার শর্ত জুন ২০২৪ থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইউক্রেইনের নেটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ এবং রাশিয়া যে চারটি ইউক্রেইনীয় অঞ্চল নিজেদের দাবি করে, সেখান থেকে ইউক্রেইনের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার।
কিইভ বলছে, প্রায় চার বছরেও রুশ বাহিনী যে অঞ্চলগুলো দখল করতে পারেনি, সেগুলো ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ইউক্রেইনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি তিনি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে শুক্রবার সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক পথ বাকি।
তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো রাশিয়া ও ইউক্রেইনের ওপরই নির্ভর করছে। আমরা কাউকে জোর করতে পারি না। আমাদের কাজ হলো, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মিলের জায়গা আছে কি না, তা খুঁজে বের করা।”
রুবিও আশা প্রকাশ করেন জানান, চলতি মাসের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত নয়।